ইতালি-ব্রাজিলের গড়া সেই ইতিহাস ডাকছে এবার আর্জেন্টিনাকে
বিশ্ব ফুটবলের বর্তমান মুকুটধারী দেশ আর্জেন্টিনা। আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখার এক কঠিন কিন্তু রোমাঞ্চকর মিশনে নামছে আলবিসেলেস্তেরা। লিওনেল মেসি ও কোচ লিওনেল স্কালোনির হাত ধরে আর্জেন্টিনা এখন এমন এক ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে, যা ফুটবল বিশ্বে কেবল ইতালি ও ব্রাজিলই করে দেখাতে পেরেছে। ফুটবল ইতিহাসের সেই বিরল ‘ব্যাক টু ব্যাক’ বা টানা দুইবার বিশ্বজয়ের রেকর্ড এবার হাতছানি দিচ্ছে আর্জেন্টিনাকে।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির হাতছানি
বিশ্বকাপের সুদীর্ঘ ইতিহাসে মাত্র দুটি দেশ টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। ১৯৩৪ সালে ঘরের মাঠে শিরোপা জেতার পর ১৯৩৮ সালে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত আসরেও শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছিল ইতালি। এরপর ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা উঁচিয়ে ধরে ফুটবল বিশ্বকে শাসন করেছিল ব্রাজিল। দীর্ঘ ৬৪ বছর পর আর্জেন্টিনার সামনে এখন সেই ইতিহাস ছোঁয়ার সুযোগ।
স্কালোনির আত্মবিশ্বাস ও সতর্কতা
চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপের সেই সাফল্যের স্মৃতি এখনো অমলিন। তবে কোচ লিওনেল স্কালোনি বরাবরের মতোই শান্ত ও ধীরস্থির। তিনি জানেন, সমর্থকদের প্রত্যাশা এখন আকাশচুম্বী এবং ব্যর্থতার কোনো জায়গা নেই। আসন্ন মিশন নিয়ে স্কালোনি বলেন, *"আমরা দারুণ ছন্দে আছি এবং মাঠে নামতে মুখিয়ে আছি। আমরা জানি বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে প্রতিপক্ষরা আমাদের ভিন্নভাবে মোকাবিলা করবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমরা লড়াইয়ে থাকব। ফুটবলে যেকোনো কিছুই হতে পারে, তবে আমরা আমাদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত।"*
ফিরে দেখা ইতালির সেই সোনালী যুগ
বিশ্বকাপে টানা দুইবার জয়ের প্রথম কীর্তি গড়েছিল ইতালি। কিংবদন্তি কোচ ভিট্টোরিও পোজোর অধীনে ১৯৩৪ থেকে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত টানা ৩০ ম্যাচে অপরাজিত ছিল আজ্জুরিরা। ১৯৩৪ সালে চেকোস্লোভাকিয়াকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পর ১৯৩৮ সালের ফাইনালে হাঙ্গেরিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে তারা টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বজয়ের উল্লাসে মাতে। মাঝপথে ১৯৩৬ সালে তারা অলিম্পিক ফুটবলেও স্বর্ণ জিতেছিল।
পেলের ব্রাজিল ও ১৯৬২ সালের জয়গাথা
ইতালির পর এই কীর্তি দ্বিতীয়বার করে দেখায় ব্রাজিল। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে মাত্র ১৭ বছর বয়সী পেলের জাদুকরী নৈপুণ্যে সুইডেনকে ৫-২ গোলে হারিয়ে প্রথম শিরোপা জেতে সেলেসাওরা। এরপর ১৯৬২ সালে চিলির আসরে পেলে চোটের কারণে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেলেও গারিঞ্চা, ভাভা ও আমারিলদোদের অসাধারণ নৈপুণ্যে চেকোস্লোভাকিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল।
আর্জেন্টিনার মিশন ২০২৬
ইতিহাসের সেই মহানায়কদের পাশে বসার সুযোগ এখন আর্জেন্টিনার সামনে। মেসি-স্কালোনি জুটি কি পারবে ইতালি ও ব্রাজিলের সেই ৬০ বছরের পুরনো রেকর্ডে ভাগ বসাতে? কোটি ফুটবল ভক্তের নজর এখন ২০২৬ বিশ্বকাপের দিকে, যেখানে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের অপেক্ষায় নামবে আলবিসেলেস্তেরা।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ