আলভী-তিথিকে বয়কটের ডাক দিয়ে এফডিসির সামনে মানববন্ধন
অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল বিনোদন অঙ্গন। ইকরার মৃত্যুর জন্য স্বামী আলভী ও অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথির ‘বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক’কে দায়ী করে তাঁদের বয়কটের ডাক দিয়েছেন সাধারণ মানুষ ও ইকরার সহপাঠীরা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে মানববন্ধনও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস-এর একটি বাসা থেকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ইকরার মরদেহ উদ্ধার করে পরিবার। ঘনিষ্ঠজনদের অভিযোগ, অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথির সঙ্গে আলভীর পরকীয়া সম্পর্কের কারণে ইকরার সংসারে অশান্তি শুরু হয়। এর জের ধরেই তিনি আত্মহননের পথ বেছে নেন।
এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আলভী-তিথির বিচারের দাবিতে বুধবার (৪ মার্চ) দুপুর ১২টায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) ফটকের সামনে মানববন্ধন করে ‘জাস্টিস ফর ইকরা’ নামের একটি সামাজিক প্ল্যাটফর্ম। সেখানে ইকরার সহপাঠী, বান্ধবী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। এসময় তারা দুই তারকাকে (আলভী ও তিথি) বয়কটের ডাক দেন এবং ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস ফর ইকরা’ স্লোগানে এফডিসি এলাকা মুখরিত করে তোলেন।
মানববন্ধনে উপস্থিত ইকরার এক ঘনিষ্ঠ বান্ধবী দাবি করেন, ইকরার মোবাইল ফোনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। তিনি বলেন, “যতটুকু আমরা জানি, পুলিশের কাছে ইকরার ফোনটি আছে। ওর ফোনে প্রচুর এভিডেন্স (তথ্য-প্রমাণ) আছে। আমাদের কাছে পাসওয়ার্ড আছে, যা দিয়ে ফোনটা খুলে পুলিশ খুব সহজেই প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারে।”
তিথির বিচারের দাবি তুলে তিনি আরও বলেন, “তিথিকে কেন মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে? পরকীয়ার বিচারের জন্য কি দেশে কোনো আইন নেই?”
এদিকে, চারদিকে সমালোচনার মুখে গত সোমবার (২ মার্চ) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন জাহের আলভী। নেটিজেনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “গল্পের একটা পাতা পড়েই আপনারা বিচার করছেন, মনের মতো যা ইচ্ছা বলছেন। কিন্তু পাতার একপাশ পড়বেন, অন্যপাশ পড়বেন না—তা তো হয় না।” এসময় তিনি তার সন্তানের প্রসঙ্গ টেনে আবেগপ্রবণ হয়ে প্রশ্ন রাখেন, “আপনারা কি চান ছেলেটা তার বাবাকেও হারাক?”
উল্লেখ্য, ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় ইতোমধ্যে রাজধানীর পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইকরার মামা শেখ তানভীর আহমেদ বাদী হয়ে দায়ের করা এই মামলায় অভিনেতা জাহের আলভীকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি পুলিশি তদন্তাধীন রয়েছে।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ