চরভদ্রাসনে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে সাংবাদিকরা: বিন্দুডাঙ্গীতে মাদক নিয়ে হট্টগোল, সতর্কবার্তা পুলিশের

সদরপুর(ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ৬:২২ পিএম
শেয়ার করুন:
চরভদ্রাসনে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে সাংবাদিকরা: বিন্দুডাঙ্গীতে মাদক নিয়ে হট্টগোল, সতর্কবার্তা পুলিশের

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় এ বছর ১৫টি পূজামণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে। দুর্গোৎসবের সার্বিক পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে তৎপর রয়েছেন সাংবাদিকরাও। এরই অংশ হিসেবে সোমবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যায় সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধিদল। পরিদর্শনকালে চরহাজীগঞ্জ বাজারসংলগ্ন বিন্দুডাঙ্গী গ্রামের একটি পূজামণ্ডপের পাশে মাদক বিক্রি ও সেবনকে কেন্দ্র করে হট্টগোলের খবর পাওয়া যায়। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে বিন্দুডাঙ্গী পূজামণ্ডপের কাছে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের অভিযোগে দুজনকে আটক করেন স্থানীয় ‘মাদক প্রতিরোধ কমিটি’র সদস্যরা। এ সময় তাঁদের সঙ্গে অভিযুক্তদের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রবের দাবি, অভিযুক্তদের চড়-থাপ্পড় দিয়ে রশি দিয়ে বেঁধে রাখার চেষ্টা করা হলেও একপর্যায়ে তাঁরা কৌশলে পালিয়ে যান। 

ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে পৌঁছান স্থানীয় বাজার বণিক সমিতির সভাপতি কবির বেপারী এবং চরভদ্রাসন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিপনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল। এ সময় সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত হয়ে সার্বিক পরিস্থিতি জানার চেষ্টা করেন। 

ইউপি সদস্য আব্দুর রব জানান, পূজা উপলক্ষে এলাকায় মাদক নির্মূল ও শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। উৎসবের পরিবেশ যাতে কেউ বিনষ্ট করতে না পারে, সেজন্য সদস্যরা তৎপর রয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করা হলেও পরে তাঁরা পালিয়ে যান। 

এদিকে, অভিযুক্ত এক ব্যক্তির মাদক সেবন নিয়ে তাঁর স্ত্রীর পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। জানা যায়, ওই নারী প্রথমে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে উপস্থিত লোকজনের সামনে তিনি আবার সুর পাল্টে বলেন, তাঁর স্বামী কাজকর্ম না করে আড্ডা দেওয়ায় ক্ষোভের বশে তিনি এমন অভিযোগ করেছিলেন। ওই নারীর এমন বক্তব্যে উপস্থিত জনমনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়। 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চরভদ্রাসন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিপন উপস্থিতদের উদ্দেশে বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সবসময় আপনাদের পাশে রয়েছে। যেকোনো প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক পুলিশকে জানান। তবে মাদক কারবারি বা সেবনকারীদের আটক করে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিন।” একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, “ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল বা পূর্বশত্রুতার জেরে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে যেন মাদক কারবারি সাজিয়ে ফাঁসানো না হয়। পুলিশ প্রতিটি বিষয় নিরপেক্ষভাবে যাচাই-বাছাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।”

এদিকে, কমিটি সদস্যদের হাত থেকে অভিযুক্তরা কীভাবে পালিয়ে গেলেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সচেতন এলাকাবাসীর দাবি, প্রকৃত সত্য উদঘাটনে প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এ বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ রাখতে প্রশাসন, সাংবাদিক ও স্থানীয় জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন উপস্থিত ব্যক্তিরা।

মণ্ডল পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন—দৈনিক সমকালের আবুল কালাম, দিনকালের মোস্তফা মাহমুদ, দৈনিক ইনকিলাবের লিয়াকত আলী, চ্যানেল এস-এর এম এম সাইফুর রহমান উজ্জ্বল, দৈনিক কালবেলার আসলাম বেপারী, দৈনিক নয়া দিগন্তের সাজ্জাদ হোসেন সাজু এবং আজকের বাংলার আহম্মদ আলী ইমন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।