সৌদিতে নজরুল-সুইটির মৃত্যুদণ্ড, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

অনলাইন ডেস্কঃ
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ২:৪৮ পিএম
শেয়ার করুন:
সৌদিতে নজরুল-সুইটির মৃত্যুদণ্ড, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

সৌদি আরবের মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশি তরুণ নজরুল ইসলামের সঙ্গে সুইটি আক্তার নামের এক নারীর বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য নাকচ করেছে নজরুলের পরিবার। পরিবারের দাবি, সুইটি নজরুলের স্ত্রী নন এবং পারিবারিকভাবে তাকে চেনেনও না তারা। একই সঙ্গে কোনো অন্যায় ছাড়াই যদি নজরুলকে সাজা দেওয়া হয়ে থাকে, তবে তার সুষ্ঠু তদন্ত ও মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার আকুল দাবি জানিয়েছেন শোকাহত স্বজনরা।

নিহত নজরুল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের দরিদ্র কৃষক আব্দুল বাছিরের ছেলে। 

নজরুলের বাবা আব্দুল বাছির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দাবিকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে বলেন, “পরিবারের আর্থিক টানাপোড়েন দূর করতে কলেজে পড়ার সময়ই ছেলেকে প্রবাসে পাঠিয়েছিলাম। সে বিয়ে করল কখন? ওই মেয়ে নজরুলের স্ত্রী নয়, তাকে আমরা চিনিও না। লোকমুখে শুনেছি, তারা একই কর্মস্থলে কাজ করত।”

স্বজনদের বরাতে জানা যায়, পরিবারের ভাগ্য বদলাতে ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর সৌদি আরবে পাড়ি জমান ২৫ বছর বয়সী নজরুল। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র ছয় মাসের মাথায় মক্কার একটি মসজিদে সুইটি আক্তার নামের এক তরুণীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁদের দুজনকে গ্রেপ্তার করে সৌদি পুলিশ। দীর্ঘ তিন বছর তিন মাস কারাবন্দী থাকার পর সম্প্রতি দুজনেরই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় বলে খবর পায় পরিবার। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা বিচার প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক কোনো নথি পরিবার এখনো হাতে পায়নি।

সন্তানকে বিদেশে পাঠাতে নেওয়া ঋণের বোঝায় এখন দিশাহারা নজরুলের পরিবার। আব্দুল বাছির জানান, সাত লাখ টাকা ঋণ করে নজরুলকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে গিয়ে মাত্র ছয় মাস কাজ করতে পেরেছিলেন তিনি, পরিবারকে পাঠিয়েছিলেন মাত্র দেড় লাখ টাকা। এর পরই তিনি গ্রেপ্তার হন। একদিকে উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারানোর গভীর শোক, অন্যদিকে পাওনাদারদের ঋণের চাপে পরিবারটি এখন চরম সংকটে। 

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নজরুলের বাবা বলেন, “আমি আমার ছেলের মরদেহ দেশের মাটিতে ফেরত চাই। আর আমার নির্দোষ ছেলেকে যদি অন্যায়ভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়ে থাকে, তবে আমি এর সঠিক বিচার চাই।”

এদিকে এ ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নজরুলের বাড়িতে ভিড় করছেন প্রতিবেশী ও সহমর্মীরা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি গাজী নিয়াজুল করিম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে সৌদি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাসের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন, দূতাবাস থেকে সময়মতো আইনি সহায়তা ও উদ্যোগ নেওয়া হলে হয়তো এ চরম পরিণতি এড়ানো যেত। এখন পর্যন্ত নজরুলের পরিবারের সঙ্গে দূতাবাসের পক্ষ থেকে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি বলেও অভিযোগ তাঁর।

বিরামপুর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা নজরুলের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ছিল কি না—তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে নজরুলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং এই সহায়-সম্বলহীন পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।