প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্কঃ
৭ জুন, ২০২৬ ১২:৫৫ পিএম
শেয়ার করুন:
প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৭ জুন) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এবারের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘কর্মমুখী শিক্ষা নেব, বিশ্বজুড়ে কাজ করব’।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময়ের ফ্যাসিবাদী শাসন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করেছে। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে এখন শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, বাস্তবমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করার মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে।”

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিকল্প নেই। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষার প্রসার ও সুযোগ নিশ্চিত করতে ১৯৯২ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বর্তমানে এর অধীনে ২ হাজারের বেশি কলেজে ৪০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষাক্রমের সময়োপযোগী পরিবর্তনের তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সাইবার সিকিউরিটি, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল উদ্যোক্তা উন্নয়ন, নেতৃত্ব, উপস্থাপনা দক্ষতা ও আর্থিক সাক্ষরতার মতো বিষয়গুলো এখন শিক্ষা কারিকুলামের অপরিহার্য অংশ হওয়া উচিত। একই সঙ্গে বায়োটেকনোলজি, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানো টেকনোলজি, থ্রিডি প্রিন্টিং এবং ফাইভ-জি প্রযুক্তির মতো উদীয়মান ক্ষেত্রগুলোতেও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতে হবে।

শিক্ষার প্রায়োগিক দিকের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সরকার শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, বরং দক্ষতাভিত্তিক, কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ শুরু করেছে। প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করলেও প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার অভাবে অনেকে বেকার থেকে যাচ্ছেন। এই সমস্যা সমাধানে বিভাগীয় শহরগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় শিল্প-প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সংযোগ বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ তহবিলের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক ধারণা বাস্তবায়নের জন্য প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে ‘সিড ফান্ডিং’ বা ‘ইনোভেশন গ্র্যান্ট’ প্রদান করা হবে। এর মাধ্যমে তরুণদের নিজস্ব উদ্যোগে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথ সুগম হবে।

শিক্ষকদের সমাজ পরিবর্তনের অগ্রদূত এবং শিক্ষার্থীদের রোল মডেল হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী তাদের জ্ঞান, দক্ষতা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়েও সচেতন করার জন্য শিক্ষক সমাজের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।