বিশ্বকাপের হাওয়ায় জার্সি পতাকার দোকানে ভিড়
ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি। এরই মধ্যে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে শুরু হয়ে গেছে তুমুল উন্মাদনা। একদিকে ঈদুল আজহার কেনাকাটা, অন্যদিকে দরজায় কড়া নাড়ছে বিশ্ব ফুটবলের মহাযজ্ঞ—এই দ্বিমুখী আনন্দের হাওয়া লেগেছে রাজধানীর গুলিস্তানের বিপণিবিতান ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে। গ্রীষ্মের তীব্র গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়া উপেক্ষা করেই প্রিয় দলের জার্সি ও পতাকা কিনতে ভিড় করছেন ক্রেতারা।
গত শনিবার রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা গুলিস্তান ঘুরে দেখা যায় এই উৎসবমুখর চিত্র। ফুটপাতজুড়ে শোভা পাচ্ছে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল ও ইংল্যান্ডসহ জনপ্রিয় দলগুলোর রঙিন জার্সি। কোথাও ঝুলছে ছোট-বড় নানা আকারের পতাকা, আবার শোরুমগুলোতে সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে নতুন ফুটবল। বিক্রেতারাও ব্যস্ত ক্রেতাদের ডাকতে।
ঈদের কেনাকাটার সাথে বিশ্বকাপের মেলবন্ধন
ফুটপাতের বিক্রেতা মোহাম্মদ ইয়াসিন জানান, বর্তমানে ঈদের কেনাকাটা করতে এসে অনেকেই আগেভাগে প্রিয় দলের জার্সি কিনে নিচ্ছেন। ঈদের পর বিশ্বকাপের আমেজ আরও বাড়লে জার্সির দাম ও চাহিদা দুই-ই বাড়তে পারে। তাই অনেকে এখন তুলনামূলক কম দামে পেয়ে পরিবারের ছোট সদস্য বা বন্ধুদের জন্য উপহার হিসেবে জার্সি কিনছেন।
ফুটপাত পেরিয়ে শোরুমগুলোতেও দেখা গেছে একই রকম ব্যস্ততা। ‘বাংলাদেশ স্পোর্টস’ শোরুমের প্রবীণ কর্মী সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘বিশ্বকাপ এলেই আমাদের ব্যবসায় এক ভিন্ন প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়। কয়েক দশক ধরে এখানে কাজ করছি; সময় বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু মানুষের ফুটবলপ্রেম একটুও কমেনি।’
একই দোকানের বিক্রয় প্রতিনিধি মোজাম্মেল জানান, ভালো মান ও টেকসই সেলাইয়ের কারণে অনেকেই একটু বেশি দাম দিয়ে হলেও শোরুম থেকে আরামদায়ক কাপড়ের জার্সি বেছে নিচ্ছেন।
কেমন দামে বিক্রি হচ্ছে জার্সি ও পতাকা?
ক্রেতাদের সুবিধার্থে মান ও প্রকারভেদে নির্ধারণ করা হয়েছে পণ্যের দাম:
জার্সি: ফুটপাতে আকার ও মানভেদে জার্সি পাওয়া যাচ্ছে ২০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে। অন্যদিকে, শোরুমগুলোতে উন্নত মানের জার্সি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ১,২০০ টাকায়।
পতাকা: সাধারণ বাংলা কাপড়ের পতাকা পাওয়া যাচ্ছে ১৫০ টাকায় এবং সার্টিন কাপড়ের পতাকা বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা থেকে শুরু করে মানভেদে সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে বাজারে সর্বোচ্চ ১৩ ফুট সাইজের পতাকা পাওয়া যাচ্ছে, তবে ক্রেতারা চাইলে এর চেয়েও বড় পতাকার অর্ডার নেওয়া হচ্ছে।
পতাকা বিক্রেতা হারুন বলেন, ‘এখনও ব্যবসা পুরোপুরি জমে ওঠেনি। আশা করছি ঈদের ছুটির পর পতাকা বিক্রি বহুগুণ বাড়বে।’
আবেগ ধরে রাখতে পারছেন না ক্রেতারা
ঈদের বাজার করতে এসে প্রিয় দলের জার্সির টান এড়াতে পারছেন না ফুটবলপ্রেমীরা। প্যান্ট কিনতে এসে জার্মানির জার্সি হাতে বাড়ি ফিরছেন সাইফুল সুমন নামের এক তরুণ ক্রেতা। হাসিমুখে তিনি বলেন, ‘এসেছিলাম ঈদের পোশাক কিনতে। কিন্তু প্রিয় দলের জার্সি দেখে আর নিজেকে সামলাতে পারলাম না, কিনে ফেললাম।’
ঈদের খুশি আর বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে গুলিস্তানের এই জমাতি বাজারে। গরমের ক্লান্তি ভুলে প্রিয় দলের সমর্থনে মেতে ওঠার এই প্রস্তুতি এখন পুরো রাজধানীজুড়েই দৃশ্যমান।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ