গণভোটের প্রচারে ১ কোটি টাকা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক: রিফাত রশিদের দাবি

অনলাইন ডেস্কঃ
Apr 25, 2026 - 11:30
গণভোটের প্রচারে ১ কোটি টাকা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক: রিফাত রশিদের দাবি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সভাপতি এবং নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা রিফাত রশিদ এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণার জন্য সাত দিনের কার্যক্রমে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ১ কোটি টাকা ফান্ড হিসেবে প্রদান করা হয়েছিল। 

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই তথ্য জানান। মূলত তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ তছরুপের অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতেই তিনি এই পোস্টটি করেন।

রিফাত রশিদ জানান, গত ২৩ এপ্রিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র সিনথিয়া জাহিন আয়েশা এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁদের বিরুদ্ধে গণভোটের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনেন। এই অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে রিফাত বলেন, “সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই এ ধরনের অভিযোগ করা একটি সুস্পষ্ট অপরাধ। তবুও সাধারণ মানুষের কাছে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আমরা বিষয়টি পরিষ্কার করছি।”

রিফাত রশিদের দাবি অনুযায়ী, গণভোটের ক্যাম্পেইনের জন্য ফান্ডের প্রয়োজনে তাঁরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক তাঁদের ফান্ড দিতে সম্মত হয়। তবে আইনি জটিলতার কারণে একটি নতুন পথ বেছে নিতে হয়। তিনি বলেন, “যেহেতু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কোনো নিবন্ধিত সংগঠন নয়, তাই বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি আমাদের অনুদান দিতে পারছিল না। এই আইনি বাধ্যবাধকতা মেটাতে আমরা দ্রুত ‘সেড ফাউন্ডেশন’ নামে একটি নিবন্ধিত সংস্থা গঠন করি।”

তিনি আরও দাবি করেন, সিনথিয়া জাহিন আয়েশা শুরুতে এই ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজে স্বাক্ষরও করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীকালে তিনি হঠাৎ করে কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ান এবং বিষয়টি নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণার হুমকি দেন। ফলে তাঁকে বাদ দিয়েই ফাউন্ডেশনের নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়।

অর্থের পরিমাণ ও ব্যয় সম্পর্কে রিফাত জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ১৫ দিনের প্রচারণার জন্য ৫ কোটি টাকার একটি চুক্তি হয়েছিল। তবে সময় স্বল্পতার কারণে ব্যাংক ৭ দিনের প্রচারণার জন্য ১ কোটি টাকা প্রদান করে। এই অর্থ দিয়ে দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচার চালানো হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “গণভোটের প্রচারণার সম্পূর্ণ আর্থিক হিসাব বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকাভুক্ত একটি অডিট ফার্ম দিয়ে নিরীক্ষা করা হয়েছে এবং সেই রিপোর্ট ইতোমধ্যে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে।”

নিজেদের স্বচ্ছ দাবি করে রিফাত রশিদ বলেন, দুদকসহ যেকোনো তদন্ত সংস্থা যদি এই বিষয়ে অনুসন্ধান করতে চায়, তবে তাঁরা সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। সব প্রয়োজনীয় নথিপত্র তাঁদের কাছে সংরক্ষিত আছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আন্দোলনের তৎকালীন অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে রিফাত বলেন, উমামা নূর, হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং আরিফ সোহেল পরবর্তী নেতৃত্ব নির্ধারণ না করায় সংগঠনের ভেতরে একটি নেতৃত্ব সংকট ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল। সেই ক্রান্তিকাল মোকাবিলা করতেই নতুন নির্বাচন কমিশন ও উপদেষ্টা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে, যা বর্তমানে সংগঠনের কার্যক্রম গতিশীল করতে কাজ করছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow