ষড়যন্ত্রের জাল ভেঙে অবশেষে মুক্তি: অস্ত্র মামলায় বেকসুর খালাস আলফাডাঙ্গার ইউপি সদস্য শরিফুলের
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বহুল আলোচিত একটি অস্ত্র মামলায় অবশেষে বেকসুর খালাস পেয়েছেন সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য সৈয়দ শরিফুল ইসলাম। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর আদালতের রায়ে স্বস্তি ফিরেছে তার পরিবার ও সমর্থকদের মাঝে।
বুধবার (১১ মার্চ) বিকালে ফরিদপুর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক জিয়া হায়দার এ রায় ঘোষণা করেন। মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষ আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত তাকে নির্দোষ ঘোষণা করে বেকসুর খালাস দেন।
মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, বুধবার মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায়ের জন্য দিন ধার্য ছিল। শুনানি শেষে আদালত চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১০ মার্চ গভীর রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিদ্যাধর গ্রামে সৈয়দ শরিফুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালায় কাশিয়ানীর ভাটিয়াপাড়া র্যাব-৬ এর একটি দল। এ সময় তার বসতঘরের পাশের একটি উন্মুক্ত রান্নাঘর থেকে একটি দেশীয় ওয়ান শুটার গান উদ্ধার দেখানো হয়। পরদিন অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে তাকে আলফাডাঙ্গা থানায় সোপর্দ করা হয়।
সৈয়দ শরিফুল ইসলাম আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়ন পরিষদের একাধিকবার নির্বাচিত জনপ্রিয় সদস্য। তার পরিবারের সদস্যদের দাবি, নির্বাচনে পরাজিত প্রতিপক্ষ তাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় করতে দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র করে আসছিল। এরই অংশ হিসেবে রাতের আঁধারে একটি উন্মুক্ত স্থানে অস্ত্র রেখে প্রশাসনকে ভুল তথ্য দিয়ে পরিকল্পিতভাবে তাকে এ মামলায় জড়ানো হয়েছিল।
রায়ের পর প্রতিক্রিয়ায় ইউপি সদস্য সৈয়দ শরিফুল ইসলাম বলেন, আমাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দীর্ঘ দুই বছর হয়রানি করা হয়েছে। আজ আদালতের রায়ে আমি ন্যায়বিচার পেয়েছি। সত্যের জয় হয়েছে— এজন্য আমি আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞ।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান খান বলেন, আমার মক্কেল সম্পূর্ণ নির্দোষ ছিলেন। তাকে পরিকল্পিতভাবে এ মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল। আমরা আদালতে তা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। বিজ্ঞ আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে তাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন।
দীর্ঘদিনের এই মামলার অবসানে স্থানীয় এলাকাবাসীর মাঝেও স্বস্তি বিরাজ করছে।
What's Your Reaction?
কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ