আলফাডাঙ্গায় গ্রাম পুলিশ বিরুদ্ধে ফেসবুকে ছড়ানো চাঁদাবাজির অভিযোগে বিভ্রান্তি: তদন্তে মিলল না সত্যতা

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ
Mar 10, 2026 - 22:39
Mar 10, 2026 - 22:39
আলফাডাঙ্গায় গ্রাম পুলিশ বিরুদ্ধে ফেসবুকে ছড়ানো চাঁদাবাজির অভিযোগে বিভ্রান্তি: তদন্তে মিলল না সত্যতা

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় গরুতে পেঁয়াজ ক্ষেত নষ্ট হওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধে এক গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে ওই অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জানা গেছে, অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশের নাম ফরহাদ মোল্যা। তিনি উপজেলার সদর ইউনিয়নের বেজিডাঙ্গা গ্রামের ইলিয়াস মোল্যার ছেলে।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, গ্রাম পুলিশ ফরহাদ মোল্যা তার বাড়ির পাশের একটি জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। তার চাচাতো ভাই প্রবাসী ইমরুল মোল্যার পালিত একটি গরু কয়েকবার ওই ক্ষেতে ঢুকে পেঁয়াজ নষ্ট করে। গত ৮ মার্চ বিকেলে আবারও গরুটি ক্ষেতের একটি বড় অংশের ফসল নষ্ট করলে ফরহাদ মোল্যা সেটিকে ধরে এনে নিজের বাড়িতে বেঁধে রাখেন।

খবর পেয়ে ইমরুল মোল্যার পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে ইসলাম মোল্যা গোপনে ফরহাদ মোল্যার বাড়িতে প্রবেশ করে গরুটি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি টের পেয়ে ফরহাদ মোল্যা লাঠি নিয়ে শিশুটিকে তাড়া করেন বলে জানা গেছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রবাসী ইমরুল মোল্যার স্ত্রী আরবী বেগম তার ছেলেকে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

পরবর্তীতে আরবী বেগম গ্রাম পুলিশ ফরহাদ মোল্যার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন বলে জানা গেছে। এ সংক্রান্ত তার একটি ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগীর পিতা ইলিয়াস মোল্যা বলেন, “ইমরুল আমার ভাতিজা। তার গরু আমার ছেলের ফসল নষ্ট করায় ঝামেলা হয়েছিল। কিন্তু চাঁদাবাজির কোনো ঘটনাই ঘটেনি। প্রতিহিংসাবশত সামাজিকভাবে হেয় করতেই আমার ছেলের নামে এমন মিথ্যা অপবাদ ছড়ানো হচ্ছে।”

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রবাসী ইমরুল মোল্যার স্ত্রী আরবী বেগমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত খান জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রাথমিক তদন্ত করা হয়েছে। তদন্তে চাঁদাবাজির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে মারধরের অভিযোগ থাকায় গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow