গোয়ালন্দে মাদক, চাঁদাবাজি ও অবৈধ বালু উত্তোলনে কঠোর হুঁশিয়ারি সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর
মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ ও অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। তিনি অপরাধীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, আগামী ৭ দিনের মধ্যে ভালো না হলে তাদের জন্য ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষ।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকেলে গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, "গত কয়েক দিনে আমার বাড়িতে অন্তত ৫ ট্রাক ফুল এসেছে। যারা ফুল দিয়েছে, তাদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের মানুষ আছে। এমনকি এখানে যারা ঠিক ঠিক বলছেন, তাদের মধ্যেও মাদক ব্যবসায়ী থাকতে পারে। আমি সবাইকে সাবধান করে দিতে চাই, ৭ দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যান। অন্যথায় তাদের জন্য খুব খারাপ পরিণতি অপেক্ষা করছে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমার কোনো কাছের মানুষও যদি অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকে, সেও রেহাই পাবে না।"
তিনি আরও বলেন, "দীর্ঘদিন রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে জেলার প্রতিটি এলাকা আমার নখদর্পণে। আমি জানি কারা মাদকের সঙ্গে জড়িত। তাই কাউকে আড়াল করার কোনো সুযোগ নেই। এখনও সময় আছে—স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুন।" এ বিষয়ে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
মাদকের পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, "আমার জেলায় অবৈধভাবে কোনো মাটি বা বালু কাটা চলবে না। কিছু মানুষের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। সবাইকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। বিএনপিতে কোনো চাঁদাবাজের জায়গা হবে না। চাঁদাবাজির দায় আমি কেন নেব? যার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।"
সভায় গোয়ালন্দের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, গোয়ালন্দে একটি আধুনিক স্টেডিয়াম এবং স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করতে একটি শিল্পকলা একাডেমি নির্মাণ করা হবে। চরাঞ্চলের কৃষি উৎপাদন বাড়াতে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি চালু ও কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া চরাঞ্চলকে একটি সম্ভাবনাময় বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হাসপাতালগুলোকে সম্পূর্ণ দালালমুক্ত করা হবে। সাধারণ মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ও বিনামূল্যে চিকিৎসা পায়, তা নিশ্চিত করা হবে।
গোয়ালন্দের ভৌগোলিক গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখানে একটি নৌবন্দর স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যা ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। গোয়ালন্দে যদি পদ্মা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ হয়, তবে এ অঞ্চল দেশের সবচেয়ে উর্বর ও সম্ভাবনাময় এলাকায় পরিণত হবে। আগামীতে রেল সংযোগ চালু হলে গোয়ালন্দ থেকে ঢাকা যেতে সময় লাগবে মাত্র ২০ মিনিট; তখন রাজবাড়ী কার্যত ঢাকারই অংশে পরিণত হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার এই উন্নয়ন শিল্প-কারখানা স্থাপন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাসের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শহিদুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসীর হাসান খান, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুল ইসলাম প্রমুখ। এছাড়াও সভায় জেলা ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, জনপ্রতিনিধি এবং উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
What's Your Reaction?
মোঃ আজমল হোসেন, বালিয়াকান্দি প্রতিনিধি, রাজবাড়ীঃ