ফরিদপুরের সদরপুরে জমি নিয়ে বিরোধ: ভাতিজাদের হামলায় চাচা নিহত, ঘটনাস্থলে পুলিশ সুপার

অনলাইন ডেস্কঃ
৩ জুন, ২০২৬ ৪:১৮ পিএম
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের সদরপুরে জমি নিয়ে বিরোধ: ভাতিজাদের হামলায় চাচা নিহত, ঘটনাস্থলে পুলিশ সুপার

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় জমিজমা, বসতবাড়ির মালিকানা ও বাগানের গাছ কাটা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ভাতিজাদের বর্বরোচিত হামলায় কাজী সিরাজুল হক ওরফে লাল মিয়া (৫৬) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিহতের এক চাচাতো ভাই গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। 

নিহত কাজী সিরাজুল হক সদরপুর উপজেলার চর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের চর চাঁদপুর কাজীর ডাঙ্গী গ্রামের মৃত ইসমাইল কাজীর ছেলে। তিনি মানিকগঞ্জের বসুন্ধরা স্টিল মিলে কর্মরত ছিলেন এবং পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় বসবাস করতেন। করোনা মহামারির পর থেকে তিনি খুব একটা গ্রামে যেতেন না। পবিত্র ঈদুল আজহার পরদিন তিনি গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। 

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাগানের গাছ কাটা ও সম্পত্তির ভাগবাঁটোয়ারা নিয়ে আগে থেকেই পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এর জেরে গত ২৯ মে (শুক্রবার) বিকেল ৩টার দিকে সিরাজুল হক ঢাকায় ফেরার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় প্রতিপক্ষের লোকজন অতর্কিত হামলা চালায়। 

হামলাকারীরা প্রথমে সিরাজুল হকের চাচাতো ভাই রানা কাজীকে (৩০) চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। তাকে বাঁচাতে সিরাজুল হক এগিয়ে গেলে ভাতিজারা তাকেও হাতুড়ি দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত রানা কাজী বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সালমা আক্তার বাদী হয়ে সদরপুর থানায় ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা (মামলা নং- ২৮/১৩১, তারিখ: ৩০/০৫/২০২৬) দায়ের করেছেন। মামলার আসামিরা হলেন—সুমন কাজী (৩৫), তুষার কাজী, তাদের মা ডলি বেগম (৫৫), সুমনের স্ত্রী মিথিলা (৩০) এবং তুষারের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সুইটি (২৫)। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন। নিহতের পরিবারের দাবি, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হাতুড়িটি কামরুল কাজী নামের এক ব্যক্তি সরিয়ে ফেলেছেন। 

স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে সালমা আক্তার বলেন, "ঈদের পরদিন সকালে আমার স্বামী গ্রামে যান। দুপুরে জুমার নামাজ শেষে বাগানের গাছ কাটা নিয়ে সম্ভবত কথা-কাটাকাটি হয়। পরে ঢাকায় ফেরার পথে তারা আমার স্বামীকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমি এই হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসি চাই।" আহত রানার স্ত্রী হালিমা সুলতানাও এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

এদিকে, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পর ২ জুন (মঙ্গলবার) সকাল ১১টার দিকে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম, ভাঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ সুপার নিহতের শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দেন এবং ন্যায়বিচারের আশ্বাস প্রদান করেন। 

পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম বলেন, "প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, জমিজমা ও গাছ কাটার বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে জড়িতরা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।"

মামলাটির তদন্তের দায়িত্বভার দেওয়া হয়েছে চরভদ্রাসন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদকে। নিহতের মরদেহ ইতিমধ্যে ফরিদপুরের আলীপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। 

দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ ও সম্পত্তির জেরে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ওই এলাকাজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।