‘আ.লীগ নেতাকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দিতে ৩ কোটি দাবি করেছিলেন হান্নান মাসউদ’

অনলাইন ডেস্কঃ
৩ জুন, ২০২৬ ১২:৩৭ পিএম
শেয়ার করুন:
‘আ.লীগ নেতাকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দিতে ৩ কোটি দাবি করেছিলেন হান্নান মাসউদ’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, গণঅভ্যুত্থানের পর এক আওয়ামী লীগ নেতাকে নিরাপদে বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়ার বিনিময়ে হান্নান মাসউদ ৩ কোটি টাকা দাবি করেছিলেন [১]।

বুধবার (৩ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে রাশেদ খাঁন এই অভিযোগ করেন [১]।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে রাশেদ খাঁন লিখেছেন, গণঅভ্যুত্থানের পর সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ [১]। আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত বৈঠক শুরু হয় এবং রাজধানীর পল্টনের হোটেল ফার্সের কয়েকটি টেবিল একপ্রকার হান্নান মাসউদের জন্যই বরাদ্দ থাকত [১]। 

**৩ কোটি টাকা দাবির অভিযোগ**
রাশেদ খাঁন তাঁর পোস্টে একটি নির্দিষ্ট ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, একবার আওয়ামী লীগের এক সাবেক সংসদ সদস্যকে (এমপি) ৪ কোটি টাকার বিনিময়ে নিরাপদে বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়ার আলোচনা ওঠে [১]। বৈঠক শেষে হান্নান মাসউদ তাঁর সহযোগী আব্দুল গাফফার জিসানকে বলেন, *"ভাই, ওরা ১ কোটি দিতে চায়, আপনি ৩ কোটিতে ডিল করেন। ওদের সব কাঁচা টাকা, টাকা-পয়সার দরকার আছে!"* হান্নান মাসউদের এমন কথা শুনে জিসান স্তম্ভিত হয়ে যান [১]। রাশেদ খাঁনের দাবি, আব্দুল গাফফার জিসান হান্নান মাসউদের এমন অনেক অনৈতিক কর্মকাণ্ডের রাজসাক্ষী [১]।

**নেপথ্যের সহযোগী জিসান**
পোস্টে জিসানের পরিচয় তুলে ধরে রাশেদ খাঁন জানান, জিসান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী [১]। আন্দোলনের উত্তাল সময়ে গত ২৭ জুলাই থেকে রিফাত রশিদ, মাহিন সরকার ও জিসান যখন আত্মগোপনে ছিলেন, তখন জিসান সার্বক্ষণিকভাবে তাঁদের সঙ্গে ছিলেন [১]। সমন্বয়কদের ছবি ও ভিডিও ধারণের পেছনের মানুষটি ছিলেন এই জিসান [১]। জিসানের ছোট ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, যিনি হান্নান মাসউদের বন্ধু [১]। গণঅভ্যুত্থানের পরও জিসান বেশ কিছুদিন হান্নান মাসউদের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন [১]। তবে হান্নানের হঠাৎ টাকার প্রতি লোভ ও পরিবর্তন দেখে একপর্যায়ে তিনি তাঁর সঙ্গ ছেড়ে দেন [১]।

**নোয়াখালীর রাজনীতি ও মোহাম্মদ আলী প্রসঙ্গ**
স্ট্যাটাসের শেষ অংশে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, নোয়াখালীর হাতিয়া আসনের সাবেক আওয়ামী লীগ এমপি মোহাম্মদ আলীকে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বা এমপি হওয়ার পথের কাঁটা মনে করতেন হান্নান মাসউদ [১]। এই কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রভাব খাটিয়ে শুরুতেই মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করাতে হান্নান বড় ভূমিকা রাখেন [১]। বিভিন্ন ঘরোয়া আলোচনায় হান্নান মাসউদ বলতেন, নোয়াখালীর অন্য কোনো আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে তাঁর বিরোধ নেই, একমাত্র বিরোধ মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে [১]। এমনকি নোয়াখালীর এমপি হতে হলে তাকেও মোহাম্মদ আলীর মতো বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হতে হবে—এমন মনোভাবও তিনি প্রকাশ করতেন [১]।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।