টঙ্গীবাড়িতে খাল খননে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ, পরিদর্শনে ইউএনও
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলায় শুরু হয়েছে খাল খনন কর্মসূচি। উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন মোকামখোলা থেকে সাতুল্লা ব্রিজ পর্যন্ত এই খননকাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরলেও, অচিরেই কাজের মান নিয়ে উঠেছে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ। অভিযোগের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে খাল খনন কাজ পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার।
পরিদর্শনকালে ইউএনও খননাধীন খালের সার্বিক অবস্থা এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী পদ্মা নদীর সঙ্গে এর সংযোগস্থল গারুরগাঁও পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওয়াজেদ ওয়াসিফ, উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাহ মোয়াজ্জেম রাজু, ধীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আকতার হোসেন মোল্লা, টঙ্গীবাড়ি প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মো. মাসুম হাসান আফিফ, সদস্য মো. আব্দুল্লাহ এবং রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি জসিম শেখসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ৫ হাজার ৭৭৬ মিটার দৈর্ঘ্যের এই খালটির তলার প্রস্থ সাড়ে ৪ থেকে ১০ মিটার এবং উপরিভাগের প্রস্থ ১৮ থেকে ২৫ মিটার হওয়ার কথা। গভীরতা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৭ ফুট। ৩ কোটি ৩৭ লাখ ৮১ হাজার ২৯০ টাকা বরাদ্দের এই প্রকল্পে ২ কোটি ৮৫ লাখ ৪৫ হাজার ১৩৯ টাকার চুক্তিমূল্যে কাজ বাস্তবায়ন করছে 'সরোয়ার জাহান প্রাইভেট লিমিটেড' নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। গত ২৫ মার্চ শুরু হওয়া এই কাজ ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, খননকাজে নির্ধারিত গভীরতা ও প্রস্থ মানা হচ্ছে না। পানি সেচ না করেই যেনতেনভাবে চলছে কাজ। ফলে অনেক স্থানেই খাল পর্যাপ্ত গভীর হচ্ছে না, যা ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রত্যাশিত সুফল বয়ে আনবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পাশাপাশি কয়েকজন কৃষকের অভিযোগ, ভারী যন্ত্রপাতি বসিয়ে ফসলি জমি কাটা হচ্ছে এবং খনন করা মাটি ফেলা হচ্ছে কৃষিজমির ওপরই। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা। স্থানীয়দের মতে, আগের অবস্থার তুলনায় খালের দৃশ্যমান কোনো উন্নয়নই চোখে পড়ছে না। তাই দ্রুত কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের কঠোর তদারকির দাবি জানিয়েছেন তারা।
এসব অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, "শিডিউল অনুযায়ী খাল খননের কাজ চলছে এবং উপজেলা প্রশাসনের তদারকি অব্যাহত রয়েছে। কোথাও কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
সার্বিক বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, "খাল খনন কাজ সঠিকভাবে হচ্ছে কি না, তা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। কৃষিজমিতে মাটি ফেলার যে অভিযোগ উঠেছে, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারও জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
What's Your Reaction?
ফিরুজ আলম বিপ্লব, টঙ্গিবাড়ী প্রতিনিধি, মুন্সীগঞ্জঃ