ন্যায্য ও উন্নয়নমুখী বাণিজ্য ব্যবস্থা নিশ্চিতের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্কঃ
Mar 30, 2026 - 10:28
ন্যায্য ও উন্নয়নমুখী বাণিজ্য ব্যবস্থা নিশ্চিতের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

ক্যামেরুনের ইয়াউন্দেতে আয়োজিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন (এমসি১৪)-এ বাংলাদেশ একটি ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উন্নয়নমুখী বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ার ওপর জোর দিয়েছে। সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বদানকারী বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কার ও এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণ পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।

সম্মেলনের তৃতীয় দিন বিভিন্ন থিম্যাটিক সেশনে অংশ নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এলডিসি থেকে উত্তরণের পর দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিশেষ সুবিধা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। আমি এমসি১৪-এ এ সংক্রান্ত একটি প্যাকেজ গ্রহণের প্রস্তাব করছি।’

তিনি একটি কার্যকর ও নিয়মভিত্তিক বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা (ডিসপিউট সেটেলমেন্ট সিস্টেম) পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায় একটি শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ অ্যাপিলেট বডি কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করা জরুরি।’

মৎস্য খাতে ক্ষতিকর ভর্তুকি নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের মৎস্য আহরণে এ ধরনের ক্ষতিকর ভর্তুকির অবদান প্রায় শূন্য। তিনি বৃহৎ মৎস্য আহরণকারী দেশগুলোর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের পাশাপাশি প্রান্তিক জেলেদের বিশেষ সুরক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া কৃষি খাতে খাদ্য নিরাপত্তা ও দারিদ্র্য বিমোচনে পাবলিক স্টকহোল্ডিং এবং উন্নত দেশগুলোর বাণিজ্য বিকৃতকারী ভর্তুকির মতো অমীমাংসিত বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানের তাগিদ দেন তিনি।

সম্মেলনে বাংলাদেশ ‘ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন ফর ডেভেলপমেন্ট এ্যাগ্রিমেন্ট’-এ ১২৯তম সদস্য হিসেবে যোগদানের ঘোষণা দেয়। ডব্লিউটিও কাঠামোর অধীনে এটিই বাংলাদেশের প্রথম কোনো বহুপাক্ষিক চুক্তিতে অংশগ্রহণ। বাণিজ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই চুক্তি বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, যুক্তরাজ্য ও হংকংসহ বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।

টিআরআইপিএস (TRIPS) চুক্তির আওতায় নন-ভায়োলেশন ও সিচুয়েশনাল কমপ্লেইন্টস-এর ওপর মোরাটোরিয়াম পরবর্তী সম্মেলন পর্যন্ত অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দেন মন্ত্রী। তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের অভিযোগ উন্নয়নশীল দেশগুলোর নীতিগত স্বাধীনতা, বিশেষ করে জনস্বাস্থ্য ও শিক্ষার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

পরিশেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ডব্লিউটিও-এর সংস্কার প্রক্রিয়া অবশ্যই স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে হতে হবে। আমাদের এই মৌলিক নীতিগুলোর ওপর প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে হবে, যাতে বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় বৈশ্বিক আস্থা ও বিশ্বাস অটুট থাকে।’


What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow