ময়লার বিলের চাঁদাবাজি নিয়ে সরব হওয়ায় হামলার শিকার ঢাকা-১৬ আসনের এমপি
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ময়লা সংগ্রহের বিলের নামে চলমান চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় হামলার শিকার হয়েছেন ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন। রোববার (৮ মার্চ) রূপনগর থানার চলন্তিকা মোড় এলাকায় এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। এ সময় এমপির সঙ্গে থাকা এক তরুণসহ বেশ কয়েকজন আহত হন এবং তাদের ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে এ অভিযোগ করেন আব্দুল বাতেন। ভিডিওতে তার সঙ্গে আহত ওই তরুণকেও দেখা যায়।
এমপি আব্দুল বাতেন বলেন, ‘নির্বাচনের পর থেকে আমি যেখানেই যাচ্ছি, সেখানেই প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকদের বাধার মুখে পড়ছি। এমনকি মসজিদে নামাজ পড়তে গেলেও তারা বাধা সৃষ্টি করছে। আজ মল্লিকা মসজিদে নামাজ শেষে মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে পরিকল্পিতভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করা হয়।’
হামলার মূল কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এলাকায় ময়লা পরিষ্কারের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। অথচ যারা ময়লা পরিবহন করেন, তারা পান মাত্র ৪০ টাকা। বাকি টাকা স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী নেতা ভোগ করেন। আমি এই চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় একটি মহল আমার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় পুলিশের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। তার ভাষ্যমতে, ‘আমার সঙ্গে পুলিশ থাকলেও তারা হামলাকারীদের নিবৃত করার চেয়ে বরং আমার সঙ্গীদেরই বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। পুলিশের এই আচরণের সুযোগে হামলাকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।’
হামলার বিবরণ দিয়ে আব্দুল বাতেন বলেন, ‘আমার সঙ্গে থাকা ক্যামেরাম্যানের ক্যামেরা, ঘড়ি ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমার সঙ্গী এক তরুণকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়েছে, তার কাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। এমনকি একজন আমাকে হুমকি দিয়ে বলেছে, আপনি এখান থেকে চলে যান, না হলে আমার চাকরি থাকবে না। আমি জানতে চাই, তারা কার ইশারায় এসব করছে এবং কার কাছে তারা দায়বদ্ধ।’
একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক সমাজে জনগণের কাছে যাওয়া এবং তাদের সমস্যা শোনা আমার দায়িত্ব। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য আমি প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি। যারা আমার কর্মী ও মিডিয়া টিমের ওপর হামলা করেছে এবং মালামাল ছিনিয়ে নিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আমি অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেব।’
ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন বা পুলিশ কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ