ট্রাম্পের বিজ্ঞান প্যানেলে ধনকুবেরদের মেলা, ১৩ জনের মধ্যে বিজ্ঞানী মাত্র একজন
যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদে (পিসিএএসটি) বড় ধরনের চমক দিয়েছেন। তবে এই চমক বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষের চেয়ে করপোরেট শক্তির দিকেই বেশি ঝুঁকেছে। ঘোষিত ১৩ সদস্যের এই পরিষদে ৯ জনই বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ধনকুবের এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী। বিপরীতে, মূলধারার একাডেমিক বিজ্ঞানী হিসেবে স্থান পেয়েছেন মাত্র একজন।
ট্রাম্পের এই উপদেষ্টা পরিষদে স্থান পেয়েছেন সিলিকন ভ্যালির রথী-মহারথীরা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মেটার মার্ক জাকারবার্গ, ওরাকলের ল্যারি এলিসন এবং গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা সের্গেই ব্রিন। তালিকায় আরও আছেন এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং, এএমডির লিসা সু এবং ডেল টেকনোলজিসের মাইকেল ডেল। এই পরিষদে থাকা করপোরেট প্রধানদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ৯০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি।
পুরো পরিষদে একমাত্র পূর্ণকালীন একাডেমিক গবেষক হিসেবে জায়গা পেয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ান্টাম পদার্থবিদ জন মার্টিনিস। গত বছর ম্যাক্রোস্কোপিক কোয়ান্টাম গবেষণার জন্য যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পাওয়া এই বিজ্ঞানী তাঁর নিয়োগকে সম্মানজনক বলে অভিহিত করেছেন। তবে পরিষদে হাতেগোনা কয়েকজনের পিএইচডি ডিগ্রি রয়েছে; যেমন লিসা সু এবং পারমাণবিক শক্তি বিষয়ক দুই উদ্যোক্তা তাঁদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে উচ্চতর ডিগ্রিধারী।
পরিষদের এই গঠন নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, আধুনিক বিশ্বে জীববিজ্ঞান ও জৈবপ্রযুক্তির গুরুত্ব অপরিসীম হলেও এই প্যানেলে কোনো জীববিজ্ঞানী নেই। ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটির পদার্থবিদ লরা গ্রিন প্যানেলে থাকা সদস্যদের মেধার প্রশংসা করলেও পেনসিলভেনিয়ার বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানী ভন কুপার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় গবেষক নিয়ে এই কমিটি জৈবপ্রযুক্তির যুগে দেশকে এক অবিশ্বাস্য ঝুঁকির মুখে ফেলবে।"
বাইডেন প্রশাসনের সময় ২৮ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদে ১৯ জনই ছিলেন একাডেমিক গবেষক। এমনকি ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও ১৩ জনের মধ্যে ৭ জন ছিলেন বিজ্ঞানী। এবার সেই ভারসাম্য পুরোপুরি ভেঙে গেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। রাইস ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞান নীতি বিশেষজ্ঞ কেনি ইভান্সের মতে, এই পরিষদ ট্রাম্পের ব্যক্তিগত অগ্রাধিকারের প্রতিফলন—যেখানে কেবল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), কোয়ান্টাম প্রযুক্তি এবং পারমাণবিক শক্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য হলো ২০৫০ সালের মধ্যে বাণিজ্যিক পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার চার গুণ বাড়ানো এবং এআই খাতে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখা। পরিষদের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ট্রাম্পের এআই বিষয়ক বিশেষ দূত ডেভিড স্যাকস এবং হোয়াইট হাউসের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নীতি দপ্তরের পরিচালক মাইকেল ক্রাতসিওস।
হোয়াইট হাউসের মতে, এই পরিষদ আমেরিকার শ্রেষ্ঠ মেধাবীদের একত্রিত করে উদ্ভাবনের এক ‘স্বর্ণযুগ’ সূচনা করবে। তবে শেষ পর্যন্ত কেবল ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ দিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জটিল চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েই যাচ্ছে।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ