ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র: ‘নো কিংস’ মিছিলে লাখো মানুষের অংশগ্রহণ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত পররাষ্ট্রনীতি, বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা এবং আগ্রাসী অভিবাসন নীতির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার দেশজুড়ে আয়োজিত ‘নো কিংস’ (No Kings) নামক এই গণবিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন লাখো মানুষ। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, ইউরোপের বিভিন্ন শহরেও সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে।
বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু ছিল মিনেসোটার সেন্ট পল শহর। সেখানকার মিনেসোটা ক্যাপিটল লন এবং আশপাশের রাস্তাগুলোতে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়ে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনেক বিক্ষোভকারী মার্কিন পতাকা উল্টো করে বহন করেন, যা ঐতিহাসিকভাবে বিপদের সংকেত হিসেবে পরিচিত।
এই কর্মসূচির অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ব্রুস স্প্রিংস্টিন। তিনি তার জনপ্রিয় গান ‘স্ট্রিটস অব মিনিয়াপলিস’ পরিবেশন করেন। গানটি পরিবেশনের আগে তিনি ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে নিহত রেনি গুড এবং অ্যালেক্স প্রেটির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। স্প্রিংস্টিন বলেন, “আইসিই (ICE)-এর মতো সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের এই নিরন্তর প্রতিবাদ আমাদের আশাবাদী করে তোলে। এই প্রতিক্রিয়াশীল দুঃস্বপ্ন এবং আমেরিকান শহরগুলোতে চালানো আক্রমণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
নিউইয়র্ক সিটির মতো জনবহুল নগরী থেকে শুরু করে আইডাহোর ছোট শহর—সর্বত্রই মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। আয়োজকদের দাবি, গত জুন ও অক্টোবরের ধারাবাহিকতায় এবারের কর্মসূচিতে প্রায় ৯০ লাখ মানুষ অংশ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যে ৩ হাজার ১০০টিরও বেশি স্থানে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা আগের তুলনায় অনেক বেশি।
বিক্ষোভের চিত্র ছিল বেশ বৈচিত্র্যময়। ক্যানসাসের টোপেকায় ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে নানা প্রতিকৃতি নিয়ে মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন। ওয়েন্ডি ওয়াট নামের একজন বিক্ষোভকারী জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি তাকে ক্ষুব্ধ করলেও, এই বিশাল গণজাগরণ তাকে ভবিষ্যতে আশাবাদী করে তুলছে।
তবে এই বিশাল গণবিক্ষোভকে গুরুত্ব দিতে নারাজ ট্রাম্প প্রশাসন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেল জ্যাকসন এই আন্দোলনকে ‘বামপন্থী অর্থায়ন নেটওয়ার্কের ফসল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি একে ‘ট্রাম্প ডিরেঞ্জমেন্ট থেরাপি সেশন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, সাধারণ জনগণের এতে কোনো সমর্থন নেই। এছাড়া ন্যাশনাল রিপাবলিকান কংগ্রেসনাল কমিটি (এনআরসিসি) এই আন্দোলনকে ‘আমেরিকা বিদ্বেষী’ এবং ‘কট্টর বামপন্থীদের বিকৃত কল্পনা’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছে।
রাজনৈতিক পক্ষ-বিপক্ষের কথার লড়াই চললেও, মার্কিন রাজপথের এই বিশাল জনস্রোত প্রমাণ করেছে যে, দেশটির বর্তমান প্রশাসনিক নীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ