৯ বছর পর চীন সফরে ট্রাম্প: বেইজিংয়ে রাজকীয় সংবর্ধনার প্রস্তুতি
দীর্ঘ ৯ বছরের বিরতি কাটিয়ে ঐতিহাসিক এক রাষ্ট্রীয় সফরে চীন যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (১২ মে) মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেইজ অ্যান্ড্রুস থেকে এয়ার ফোর্স ওয়ানে চড়ে বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব অ্যানা কেলি জানিয়েছেন, বুধবার (১৩ মে) ট্রাম্প বেইজিংয়ে পৌঁছালে তাকে বর্ণাঢ্য ও রাজকীয় সংবর্ধনা দেওয়া হবে। এই সফরকে দুই পরাশক্তির বিদ্যমান উত্তেজনা প্রশমন এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সফরসূচিতে যা থাকছে
সফরের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুই বিশ্ব নেতার মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীনের ঐতিহাসিক স্থাপত্য ‘টেম্পল অফ হেভেন’ পরিদর্শন করবেন। সফর শেষে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দেওয়া এক জমকালো রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি।
ট্রাম্পের সঙ্গে একঝাঁক করপোরেট জায়ান্ট
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সফরে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো তার সফরসঙ্গীরা। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় প্রভাবশালী সব করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীরা এই প্রতিনিধি দলে রয়েছেন। হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, এই তালিকায় রয়েছেন টেসলা প্রধান ইলন মাস্ক, অ্যাপলের টিম কুক, বোয়িংয়ের কেলি অর্টবার্গ এবং জিই অ্যারোস্পেসের ল্যারি কাল্পসহ আরও অনেকে। মূলত বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন পথ খুঁজতেই এই শীর্ষ ব্যবসায়ীদের বেইজিং সফর।
সফরের গুরুত্ব ও প্রেক্ষাপট
সবশেষ দক্ষিণ কোরিয়ার একটি বিমানঘাঁটিতে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের দেখা হয়েছিল। সেই সংক্ষিপ্ত বৈঠকে চীনা পণ্যের ওপর আরোপিত তিন অঙ্কের অতিরিক্ত শুল্ক স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের মতে, এই সফরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম চীনের অর্থনীতির ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। উৎপাদন খরচ প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় বেইজিং চাচ্ছে দ্রুত এই যুদ্ধের অবসান হোক। ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধের এই প্রভাব ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নিয়ে দুই নেতার মধ্যে গভীর আলোচনা হবে।
নিরাপত্তার চাদরে বেইজিং
মার্কিন প্রেসিডেন্টের আগমনকে কেন্দ্র করে বেইজিংজুড়ে এখন নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তিয়ানআনমেন স্কয়ারসহ গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও কৌশলগত এলাকাগুলো নতুন সাজে সাজানো হয়েছে।
বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই চীন সফর দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণে এক টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ