ফরিদপুরে বিএনপি নেতা পরিচয়ে ব্যবসায় প্রভাব, গণপিটুনি খেয়ে এলাবাসীর নামে চাঁদাবাজি মামলা
ফরিদপুরে বিএনপি নেতা পরিচয়ে ডিস ও ইন্টারনেট ব্যবসায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তার কেটেঁ দেয়াসহ নানা বিড়ম্বনায় ক্ষুদ্ধ গ্রামবাসী একজনকে গণপিটুনি দেয়। এই ঘটনায় এলাকাবাসীর নামে উল্টা চাঁদাবাজি মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও কেবল ব্যবসায়ী বিজয় হাসান বাবলু এবং তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে।
গ্রামবাসীর অভিযোগ তাঁরা প্রতিনিয়ত অন্য ব্যবসায়ীর সংযোগকৃত বিভিন্ন বাড়ি ও দোকানের লাইন কেটে অত্যাচার করে নিজেদের সংযোগ নেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে।
ফরিদপুর জেলা সদরের অম্বিকাপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি বিজয় হাসান বাবুল ও তাঁর ছোট ভাই মো. আক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে। তাঁরা ওই ইউনিয়নের দ্বিরাজতুল্লাহ মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা।
রবিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, দ্বিরাজতুল্লাহ মাতুব্বরের ডাঙ্গীসহ আশপাশের চারটি গ্রামে বিগত ১০ বছর যাবৎ আসলাম শেখ নামে একজন ডিস ও ইন্টারনেট সংযোগের ব্যবসা করে।
এরমধ্যে গত দুই বছর আগে ওই এলাকায় ডিস ও ইন্টারনেট ব্যবসা শুরু করেন ইউপি সদস্য বিজয় হাসান বাবুলের ভাই আক্তার হোসেন। এরপর থেকে তাঁর নিজেদের ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর জন্য আধিপত্য ও প্রভাব বিস্তার করে পূর্বের ব্যবসায়ীর সংযোগকৃত লাইন প্রতিনিয়ত রাতের আঁধারে কেটে দিয়ে আসছেন। এমনকি পূর্বের ওই ব্যবসায়ীর নিকট থেকে কেউ সংযোগ নিলে তাঁদেরকেও ভয়ভীতি দেখিয়ে চাপ সৃষ্টি করে। দুই ভাইয়ের এমন হয়রানি ও কর্মকান্ডে বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর অভিযোগ গত ১৯ মার্চ রাত ১০ টার দিকে ওই গ্রামের রুস্তুম শেখের বাড়িতে কেবল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে যায় আক্তার হোসেনসহ তিন ব্যক্তি। এ সময় তাঁরা উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুতের একটি তারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এতে তারটি টিনের চালার উপরে পরে ওই ঘরসহ আশপাশের কয়েকটি ঘর বিদ্যুতায়িত হয়ে যায়। এ ঘটনায় দুটি পরিবারের নারী-পরুষসহ অন্তত ৭ জন আহত হন। এ সময় তাঁদের শোরচিৎকারে এলাকাবাসী জড়ো হয়ে আক্তার হোসেনকে হাতেনাতে আটক করে এবং অন্য দুইজন পালিয়ে যায়। এক পর্যায়ে কয়েক'শ বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী জড়ো তাকে গণপিটুনি দেন। এতে আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে ওই এলাকার ১০ জনের নামসহ এবং অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জন উল্লেখ করে ফরিদপুর বিজ্ঞ জ্যেষ্ঠ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ১নং আমলী আদালতে চাঁদাবাজির অভিযোগ করা হয়েছে। একইদিনের ঘটনা দেখিয়ে ৬ দিন পর ২৫ মার্চ আদালতে এ অভিযোগ করেন আহতের স্ত্রী সাদিয়া আক্তার।
এ মামলায় আসামী করা হয়েছে ওই এলাকার সৌদিআরব প্রবাসী সামসুল মোল্যাকে। তিনি গত ২২ বছর যাবৎ দেশটিতে অবস্থান করছেন এবং সম্প্রতি চারমাসের ছুটি নিয়ে দেশে এসেছেন। ভুক্তভোগী এই প্রবাসী অভিযোগ করে বলেন, ‘বাবলু মেম্বার ও তাঁর ভাই আক্তার দীর্ঘদিন যাবৎ তাদেে গ্রামের মানুষকে হয়রানি করে আসতেছে। অন্যকারো থেকে ইন্টারনেট বা ডিসের সংযোগ নিলে সে সংযোগ প্রতিনিয়ত রাতের আধারে কেটে দেয়া হয়। এলাকাবাসী প্রশাসনকে জানালে তাঁরা হাতেনাতে ধরতে বলে। সেই প্রেক্ষিতে এলাকাবাসী হাতেনাতে ধরে গণপিটুনি দিয়েছে। কিন্তু ঘটনাস্থলে আমি পরে গিয়েছিলাম। এ ঘটনাকে চাঁদাবাজির কারন দেখিয়ে আমাকে আসামী করা হয়েছে। আমার বিদেশ যাওয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়ব। আমি প্রশাসনের কাছে ন্যায্য ও সঠিক বিচারের দাবি জানাই।’
নিজাম উদ্দীন নামে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককেও এ মামলায় আসামী করা হয়েছে। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের এই গ্রামসহ চারটি গ্রামে দিনের পর দিন ডিস ও ইন্টারনেটের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে আসছে বাবুল ও আক্তার। মানুষ তাঁদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে। এরমধ্যে এক বাড়িতে লাইন কাটতে গিয়ে বিদ্যুতের তার কেটে ফেলে। ওই সময় ভয়ংকর অবস্থা সৃষ্টি হয়। তখন এলাকার হাজার হাজার লোক জড়ো হয়ে আক্তারকে গণপিটুনি দেয়। কিন্তু এ ঘটনাকে চাঁদাবাজির কারন দেখিয়ে মামলা করা হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে সঠিক বিচারের দাবি জানাচ্ছি এবং এ হয়রানি থেকে মুক্তি চাই।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য বিজয় হাসান বাবুল দাবি করেন, কেবল ব্যবসায়ী আসলাম ও প্রবাসী সামসুল পরিকল্পিতভাবে আমার ভাইকে মারধর করেছে। সেদিন রাতে লাইন কাটার কোনো ঘটনা ঘটেনি, লাইন লাগাতে গিয়েছিল। শেষের দিকে আমার ভাই সেখানে গেলে পরিকল্পিতভাবে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। মূলত, আসলাম এক বছর আগে আমাদের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা চেয়ে বলেছিল, টাকা দিবি আর নয় লাইন দিতে পারবি না। এই কারনে ক্ষিপ্ত হয়ে মারধর করেছে।
এদিকে কোতোয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক(এস.আই) নুর হোসেন জানান, ডিস ও ওয়াই-ফাই ব্যবসা নিয়ে দুই পক্ষের দন্দ ছিল। তার কাটাকাটি ও কয়েক বাড়ির বিদ্যুৎতের তার কাটার কারণে দুর্ঘটনা নিয়ে ঐ রাতে একজন কে গনপিটুনির ঘটনা ঘটে। এমন খবর পেয়ে বহু মানুষের ভিতর থেকে বাবলু মেম্বারের ভাই আক্তার হোসেন কে আহতাবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
What's Your Reaction?
জেলা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ