ইরানের তেল ক্ষেত্র দখলের ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১০:১৭ এএম
শেয়ার করুন:
ইরানের তেল ক্ষেত্র দখলের ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত পঞ্চম সপ্তাহে গড়িয়েছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিস্ফোরক এক মন্তব্য করে বলেছেন, ইরানের তেল খাতের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং তেহরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খারগ দ্বীপ’ দখল করাই তার ‘সবচাইতে প্রিয় কাজ’।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ কথা বলেন। তিনি জানান, ভেনেজুয়েলায় চালানো অভিযানের আদলেই তিনি ইরান নীতি বাস্তবায়ন করতে চান। প্রসঙ্গত, ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার পর ওয়াশিংটন দেশটির তেল শিল্পের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমার সবচাইতে প্রিয় কাজ হলো ইরানের তেল দখল করা। যারা এই পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তারা আসলে নির্বোধ।’ তিনি ইঙ্গিত দেন যে, খারগ দ্বীপ দখলের মাধ্যমে ইরানের জ্বালানি বাণিজ্যে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটানো সম্ভব, যা তেহরানের অর্থনীতির ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করবে। উল্লেখ্য, ইরানের মোট তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের মাধ্যমে হয়ে থাকে।

এদিকে, এই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পেন্টাগন ইরানে প্রায় ১০ হাজার সৈন্য পাঠিয়ে দীর্ঘমেয়াদী স্থল যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েক হাজার মেরিন সেনা সেখানে পৌঁছেছে এবং আরও সেনাদল যাওয়ার পথে রয়েছে। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, খারগ দ্বীপে যেকোনো স্থল অভিযান মার্কিন সেনাদের চরম ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। বিশেষ করে ইরানের মাইন হামলার আশঙ্কায় হরমুজ প্রণালী ও এর আশেপাশের অঞ্চলে জাহাজ চলাচল অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

এসব ঝুঁকিকে অবশ্য খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা খুব একটা শক্তিশালী নয় এবং যুক্তরাষ্ট্র সহজেই তা দখল করতে সক্ষম।

যুদ্ধের ভয়াবহতা বাড়লেও আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি জানান, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে। তবে ট্রাম্প তেহরানকে সংঘাত অবসানের শর্ত মেনে নেওয়ার জন্য আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ওই সময়ের মধ্যে চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর বাকি লক্ষ্যবস্তুগুলোতেও হামলা চালানো হবে।

ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১৩ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলা চালানো হয়েছে এবং আরও ৩ হাজার লক্ষ্যবস্তু বাকি রয়েছে। তবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বিশ্লেষকদের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।