দেশে হাম পরিস্থিতি মহামারি পর্যায়ে পৌঁছায়নি, জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রয়োজন নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বর্তমান পরিস্থিতিকে কোনোভাবেই মহামারি বলা চলে না বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি। সোমবার সকালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার জিন্দা পার্কে অবস্থিত ‘লিটল অ্যাঞ্জেল সেমিনারি’তে দেশব্যাপী হামের টিকাদান কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
গত প্রায় দুই মাসে দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে দুই শতাধিক শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হামের কারণে দেশে ইমার্জেন্সি বা জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে হবে, এমন কোনো পরিস্থিতি নেই। যারা জরুরি অবস্থা ঘোষণার কথা বলছেন, তারা কী বুঝে বলছেন তা বোধগম্য নয়। তিনি জানান, প্রথম শিশু মৃত্যুর পরপরই সরকার দ্রুত আইসিইউ এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করেছে।
টিকা সংকট প্রসঙ্গে বিগত সরকারের সমালোচনা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগের সরকার পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন রেখে যায়নি। তবে বর্তমান সরকার অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে গ্যাভি ও ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ করেছে। চলতি মাসের ৫ তারিখ থেকে ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় টিকাদান শুরু হলেও সোমবার থেকে সারা দেশে এই কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই হামে আক্রান্তের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রাজধানীর হাম পরিস্থিতি সম্পর্কে সাখাওয়াত হোসেন জানান, ঢাকায় হামের প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক কম। রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে মূলত বাইরের জেলা থেকে আসা রোগীরাই এসে ভর্তি হচ্ছেন। এরপরেও সরকার ঢাকাতে টিকাদানের পরিধি বৃদ্ধির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সরকার দেশব্যাপী এই জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। শুক্রবার ও অন্যান্য সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সব স্থায়ী ও অস্থায়ী কেন্দ্রে এই টিকা দেওয়া হবে। এই বিশেষ ক্যাম্পেইন সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতে আগামী ২০ মে পর্যন্ত এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ১২ মে পর্যন্ত চলবে।
টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, জেলা প্রশাসক রায়হান কবির এবং জেলা সিভিল সার্জন এ.এফ.এম. মুশিউর রহমানসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ