ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে যে দুই শর্ত দিল ইরান

অনলাইন ডেস্কঃ
২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:৫৬ এএম
শেয়ার করুন:
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে যে দুই শর্ত দিল ইরান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে সম্ভাব্য আলোচনায় বসতে দুটি কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইরান। লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর এবং ইরানের জব্দ করা সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে অনড় রয়েছে তেহরান। এই শর্ত দুটিতে ইতিবাচক সাড়া পেলেই কেবল আলোচনার টেবিলে বসবে তারা। 

গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার উদ্দেশ্যে তাঁর একটি প্রতিনিধি দল পাকিস্তানে যাচ্ছে। সোম বা মঙ্গলবারের দিকে এই বৈঠক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। তবে, ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তারা এই আলোচনাকে ‘যুদ্ধক্ষেত্রের ধারাবাহিকতা’ হিসেবেই বিবেচনা করছে।

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে জানান, তেহরান তাদের পূর্বশর্তগুলোর বিষয়ে এখনো অনড়। তিনি বলেন, ‘লেবানন ইস্যুটি আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর পাশাপাশি, জব্দ করা সম্পদ মুক্তির বিষয়টিও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের অন্যতম প্রধান পূর্বশর্ত। স্বাভাবিকভাবেই, ইরান তার এই মূলনীতির ওপর দৃঢ়ভাবে অবস্থান করছে।’

শর্ত মানা না হলে পরিণতি খারাপ হবে বলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি দেন আজিজি। তিনি বলেন, ‘রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট বা প্রতিরোধ যোদ্ধাদের—যা আমাদের যুদ্ধক্ষেত্রেরই অংশ—স্বার্থের পরিপন্থী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে অথবা তারা পূর্বের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে ধরে নিতে হবে যে, তারা ইরানের শর্ত মানেনি। আর স্বাভাবিকভাবেই এর প্রভাব পড়বে।’

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে ইরান কেবল নিজেদের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তাকেই প্রাধান্য দিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন ইব্রাহিম আজিজি। ইসলামাবাদে প্রতিনিধি দল পাঠানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বর্তমান আলোচনাগুলোকে যুদ্ধক্ষেত্রেরই একটি ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছি। যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্যগুলো টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে এটি একটি সুযোগ হতে পারে। কিন্তু আমেরিকানরা যদি তাদের দাদাগিরি বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে অতিরিক্ত কোনো দাবি চাপিয়ে দেওয়ার মঞ্চ হিসেবে এটিকে ব্যবহার করতে চায়, তবে ইরান তা মেনে নেবে না।’

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) এই সাবেক কমান্ডার আরও বলেন, ইরান আলোচনার বিপক্ষে নয়, তবে এর অর্থ এই নয় যে ‘যেকোনো মূল্যে’ তারা আপস করবে। তেহরান নিজেদের জন্য কিছু ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা নির্ধারণ করেছে, যা অপর পক্ষকে অবশ্যই মেনে চলতে হবে। 

সবশেষে ইসলামাবাদে ইরান প্রতিনিধি দল পাঠাবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আজিজি জানান, মার্কিন আলোচক দলের কাছ থেকে পূর্বশর্তগুলোর বিষয়ে ইতিবাচক সংকেত পেলেই কেবল তেহরান আলোচনার টেবিলে বসতে রাজি আছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।