চোর’ অপবাদে কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, ভাইরাল ভিডিওতে ক্ষোভ—ভুক্তভোগীর মায়ের মামলা, গ্রেপ্তার ৩

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় চুরির অভিযোগ তুলে এক কিশোরকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্মম নির্যাতনের ঘটনা

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ
Apr 13, 2026 - 22:15
Apr 13, 2026 - 12:22
চোর’ অপবাদে কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, ভাইরাল ভিডিওতে ক্ষোভ—ভুক্তভোগীর মায়ের মামলা, গ্রেপ্তার ৩

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় চুরির অভিযোগ তুলে এক কিশোরকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্মম নির্যাতনের ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন তুলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ এবং ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

পুলিশ জানায়, সোমবার (১৩ এপ্রিল) গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে শনিবার সকালে উপজেলার পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের চর চান্দড়া এলাকায় এ নৃশংস ঘটনা ঘটে।

নির্যাতনের শিকার কিশোর মো. হোসাইন (১৫), মৃত মোছেন শেখের ছেলে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মো. ইয়াছিন শেখ (২২), মো. শাকিল শেখ (১৯) ও বিল্লাল কাজী (৪৫)।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, কিশোরটিকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হচ্ছে। একপর্যায়ে সে অসুস্থ হয়ে পড়লেও ‘অভিনয় করছে’ বলে অভিযোগ তুলে পুনরায় নির্যাতন চালানো হয়, যা মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হোসাইন ঢাকায় একটি ফার্নিচার কারখানায় কাজ করে। সম্প্রতি ছুটিতে বাড়ি এলে ওই কারখানায় একটি ড্রিল মেশিন চুরির ঘটনায় তাকে সন্দেহ করা হয়। এরপরই তাকে ‘চোর’ আখ্যা দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়।

ভুক্তভোগী কিশোর হোসাইন জানায়, ঢাকা থেকে বাড়ি আসার পরদিনই আমাকে ঘরে আটকে রাখা হয়। পরে ইয়াছিন ও শাকিল আমাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করে।

কিশোরের মা বানু বেগম বলেন, আমার ছেলে ঢাকায় কাজ করে। বাড়িতে আসার পর তাকে অন্যায়ভাবে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় তিনি নিজে বাদী হয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহিদুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে গিয়ে দেখি ছেলেটিকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন ছিল।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মো. ফিরোজ শেখ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলেটিকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলাম। তবে আমার সামনে কোনো মারধর হয়নি।

পাঁচুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. সাইফুর রহমান বলেন, ঘটনার কথা জানার পর পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

আলফাডাঙ্গা থানার ওসি মো. আবুল হাসনাত খান বলেন, ভিডিওটি পর্যালোচনা করে রাতেই তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow