পার্বত্য বান্দরবানের দুর্গম থানচি–চিম্বুক সড়কের ৩৪ কিলোমিটার অংশে মাসব্যাপী সফল রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৭ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (১৭ ইসিবি)। ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে থানচি থেকে ক্যাফে নীল (কাপ্রু পাড়া) পর্যন্ত এ সড়ক সংস্কার কাজ জানুয়ারির শুরু থেকে ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হয়।
দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি এই সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও ভাঙন থাকায় পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হতো। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সড়কটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ত। সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগের ফলে সড়কটি এখন চলাচলের উপযোগী ও নিরাপদ হয়েছে।
ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা বাইকার সাব্বির জানান, গত নভেম্বর মাসে যখন এসেছিলাম, তখন নীলগিরি পার হয়ে জীবননগর পর্যন্ত রাস্তায় অসংখ্য গর্ত ছিল। কিন্তু এবার এসে পুরো চিত্র বদলে যেতে দেখলাম। বর্তমান সড়কটি দেখে মনে হচ্ছে এটি কোনো মহাসড়ক।
পর্যটকবাহী জীপচালক মানিক মিয়া বলেন, “আগে গর্তভরা সড়কে গাড়ি চালানো ছিল চরম আতঙ্কের। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে পর্যটকদের চাপ বাড়বে, এমন সময়ে দ্রুত সড়কটি মেরামত করায় আমরা সেনাবাহিনী ও ১৭ ইসিবি’র কাছে কৃতজ্ঞ।”
সড়ক সংস্কারের সময় স্থানীয়দের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্পিডব্রেকারও নির্মাণ করে দিয়েছে সেনাবাহিনী। এ বিষয়ে স্থানীয় এক গ্রামবাসী জানান, আগে দ্রুতগতির গাড়ির কারণে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত থাকতাম। এখন স্পিডব্রেকার দেওয়ায় ঝুঁকি অনেকাংশে কমেছে।
এ বিষয়ে ১৭ ইসিবি’র প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, যানবাহন চালক, যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় চলাচল নিশ্চিত করাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে অবকাঠামো উন্নয়নে সেনাবাহিনী ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সড়কটির এই উন্নয়নের ফলে আসন্ন পর্যটন মৌসুমে থানচি ও নীলগিরি অভিমুখে পর্যটকদের যাতায়াত আরও সহজ ও নিরাপদ হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।