সদরপুরের ৭ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাল সনদ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে জাল সনদ ব্যবহারসহ গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) এক তদন্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সম্প্রতি সারাদেশে ৯৭৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চালানো পরিদর্শন ও নিরীক্ষা প্রতিবেদনটি গত ১ মার্চ সংস্থাটির নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সদরপুর উপজেলার অভিযুক্ত ৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো—শৈলডুবী উচ্চ বিদ্যালয়, চরব্রাম্মন্দী উচ্চ বিদ্যালয়, বিশ্ব জাকের মঞ্জিল আলিয়া কামিল মাদ্রাসা, ক্বারীরহাট দাখিল মাদ্রাসা, সদরপুর মহিলা কলেজ, চর বন্দর খোলা ফাজিল মাদ্রাসা এবং শোনপচা নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসা।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সারাদেশে নিরীক্ষা করা ৯৭৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীদের জাল ও ভুয়া সনদ ব্যবহার, অগ্রহণযোগ্য সনদপত্র দাখিল, ভুয়া নিয়োগ, অর্থ আত্মসাৎ এবং ভ্যাট ও আয়কর সংক্রান্ত জটিলতাসহ নানা অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। এসব অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারের ৮৯ কোটি ৮২ লাখ ২৫ হাজার ৬০৭ টাকা লোপাট হয়েছে, যা অবিলম্বে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করেছে তদন্তকারী সংস্থা। পাশাপাশি, দেশের বিভিন্ন স্থানে বেহাত হওয়া প্রায় ১৭৬ দশমিক ৫২৩ একর জমি উদ্ধারেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নই। পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) সরাসরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অডিট পরিচালনা করে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ই-মেইলে অডিট আপত্তির প্রতিবেদন পাঠিয়ে থাকে। সাধারণত জাল ও ভুয়া সনদ, ভুয়া নিয়োগ এবং আর্থিক অনিয়মের বিষয়গুলো অডিট আপত্তিতে উঠে আসে।’
এলাকাবাসীর দাবি, শিক্ষা খাতে এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন জালিয়াতি করার সাহস না পায়।
What's Your Reaction?
নুরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ