খলিলুর রহমানকে মাস্টারমাইন্ড ও রিজওয়ানাকে ‘রাজসাক্ষী’ দাবি জামায়াতের

অনলাইন ডেস্কঃ
Mar 5, 2026 - 15:54
খলিলুর রহমানকে মাস্টারমাইন্ড ও রিজওয়ানাকে ‘রাজসাক্ষী’ দাবি জামায়াতের

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ইলেক্টরাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা কারচুপির মাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর একটি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন বিস্ফোরক দাবি করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সংসদীয় দলের বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেন, ৫৩টি আসনে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বড় ধরনের অনিয়মের তথ্য রয়েছে তাদের হাতে। এ প্রসঙ্গে সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সাম্প্রতিক একটি মন্তব্যকে ‘রাজসাক্ষী’ হিসেবে অভিহিত করেন ডা. তাহের। তিনি বলেন, “সৈয়দা রিজওয়ানা নিজেই স্বীকার করেছেন যে, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে প্রধান শক্তি হিসেবে আসতে দেওয়া হয়নি। তার এই বক্তব্যের মাধ্যমেই প্রমাণিত হয় যে, নির্বাচনের ফলাফল প্রকৌশলগতভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল।”

বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সম্পর্কে ডা. তাহের দাবি করেন, তিনি ‘লন্ডন ষড়যন্ত্রের’ মূল হোতা। তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে থাকা অবস্থায় খলিলুর রহমান নানা কৌশলে বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় আনতে কাজ করেছেন। ডা. তাহেরের ভাষায়, “বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতা অতীতে খলিলুর রহমানের কর্মকাণ্ডের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। অথচ আজ তিনিই বিএনপির আশীর্বাদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এর পেছনে গোপন কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।”

নির্বাচনী কারচুপির সাথে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, “যাঁরা জাতির সুষ্ঠু নির্বাচনের আকাঙ্ক্ষাকে ভণ্ডুল করেছেন, তারা মীর জাফরের ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে কারচুপির নেপথ্যে দায়ীদের চিহ্নিত করতে সাবেক উপদেষ্টাদের জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা জরুরি।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা বর্তমান সরকারের কাছে জানতে চাই—ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় এবং কাদের যোগসাজশে জামায়াতে ইসলামীকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন থেকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছিল? পুরো সরকার নাকি এর কোনো শক্তিশালী অংশ এর সঙ্গে জড়িত ছিল?”

দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. তাহের বলেন, জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছিল, কিন্তু সরকার এখন সেই পথ থেকে সরে আসছে। ডেপুটি স্পিকার পদ গ্রহণের বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে লিখিত প্রস্তাব পেলে আমরা ভেবে দেখব। তবে তার আগে জুলাই অভ্যুত্থানের ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, সাইফুল আলম খান মিলন এমপি এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট শিশির মনির।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow