জামায়াত নেতার ডাকা খেয়াঘাট দখলে নিলেন বিএনপির আহ্বায়ক
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভাটিকাপাসিয়া খেয়াঘাট জোরপূর্বক দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই ইউনিয়নের বিএনপি আহ্বায়ক মো. জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ঘাটটির বৈধ ইজারাদার ও কাপাসিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মো. হারুন-অর-রশিদ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ ও ঘটনার বিবরণ:
ইজারাদারের অভিযোগ, ঘাট দখলের আগে থেকেই জামাল উদ্দিন তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না দেওয়ায় গত শুক্রবার (২২ মে) সকালে জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘাটে হামলা চালায়। এ সময় ইজারাদারের নৌকায় কর্মরত মাঝি মো. কবির উদ্দিনকে মারধর করা হয়। হামলায় কবির উদ্দিনের ডান পায়ের হাড় ভেঙে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ইজারাদারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।
জেলা পরিষদের অবস্থান:
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, যথাযথ প্রক্রিয়ায় নিলামের মাধ্যমে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত ঘাটটি ইজারা নিয়েছেন মো. হারুন-অর-রশিদ। জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) বিপুল চন্দ্র দাস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বৈধ ইজারাদার ছাড়া অন্য কারও ঘাট পরিচালনা বা নিয়ন্ত্রণ করার কোনো আইনগত সুযোগ নেই। তিনি বলেন, “ইজারাদার ছাড়া অন্য কেউ পারাপারের ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করলে তা নিয়মবহির্ভূত।”
অভিযুক্ত ও ইজারাদারের বক্তব্য:
অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা মো. জামাল উদ্দিন মারধর বা চাঁদা দাবির কথা অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, “স্থানীয়দের দাবির মুখে আমি ঘাট নিয়ন্ত্রণে নিয়েছি এবং টোল কমিয়ে ১০ টাকা নির্ধারণ করেছি। এতে জনগণ খুশি।”
অন্যদিকে, ইজারাদার মো. হারুন-অর-রশিদ জানান, স্থানীয়দের সম্মতিতে এবং নিয়ম মেনেই তিনি ৩০ টাকা টোল আদায় করছিলেন। তিনি বলেন, “বৈধভাবে ইজারা নেওয়া ঘাট দখল করে আমার কর্মীকে পঙ্গু করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
দলের প্রতিক্রিয়া ও পুলিশ:
সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. বাবুল আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, “সরকারি খেয়াঘাট কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দখল করার এখতিয়ার নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ