আগৈলঝাড়ায় আয়রন ব্রীজের ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাশঁ

মোঃ মনিরুজ্জামান, অগৈলঝরা প্রতিনিধি, বরিশালঃ
Apr 15, 2026 - 23:20
Apr 15, 2026 - 23:20
আগৈলঝাড়ায় আয়রন ব্রীজের ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাশঁ

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় একটি আয়রন ব্রীজে রডের পরিবর্তে বাশেঁর কঞ্চি দিয়ে ঢালাই দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লার বিরুদ্ধে। এই ব্রীজ নির্মানের অজুহাতে স্থানীয়দের কাছ থেকে একাধিকবার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এবং ব্রীজ ঢালাইয়ের দিন সিমেন্ট নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে ওই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। ব্রীজ নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাশেঁর কঞ্চি দেওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে উপজেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলেও উপজেলা এলজিইডি বিভাগ কোন পদক্ষেব নেয়নি।  

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা রত্নপুর ইউনিয়নের দুশমী-করিমবাজার খালের উপর বারপাইকা গ্রামের রুহুল হোসেনের বাড়ি সামনে ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে একটি আয়রন ব্রীজ নির্মাণ করা হয়। ওই ব্রীজটি ৪৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও সাড়ে পাচঁ ফুট প্রস্ত। ব্রীজটির ঢালাই দেওয়ার সরকারী নিয়ম রয়েছে ৫ ইঞ্জি কিন্তু ঢালাই দিয়েছে সাড়ে ৩ ইঞ্চি। আয়রন ব্রীজের দৈর্ঘের ৮ ইঞ্চি ও প্রস্তে ৬ ইঞ্চি পর পর রড দেওয়ার নিয়ম থাকলেও ঠিকাদার দিয়ে ১ ফুট পরপর। স্থানীয়রা ঢালাইয়ের সময় বাধাঁ দিলে ঠিকাদার ৫ পিচ রড আনে এবং ঢালাইয়ে সিমেন্ট কম হওয়ায় স্থানীয়দের দিয়ে ৫ ব্যাগ সিমেন্ট ক্রয় করে এনে ব্রীজের উত্তর পাড়ে বাশেঁর কঞ্চি দিয়ে মঙ্গলবার ঢালাই সম্পন্ন করে। ব্রীজদিয়ে যাতায়াতকারী মোঃ হিমু মোল্লা ও ইদ্রিস মোল্লা বলেন ব্রীজটি ৫৫ ফুট দৈঘ্য হলেও ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা ঢালাই দিয়েছে ৪৫ ফুট। উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়ন পরিষদ ব্রীজটি ঢালাইয়ের জন্য সম্প্রতি ১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয় ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লাকে। ব্রীজের সুফলভোগীদের কাছ থেকে ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা ব্রীজ দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন সময় ৮৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলেন স্থানীয় জানান। 

ব্রীজটিতে নিম্মমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় ব্রীজটি ঝুকিপূর্ন হওয়ার আতংক বিরাজ করতে যাতায়াত কারীদের মাঝে ।

এব্যাপারে ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, বাশঁ ব্যবহার করা হয়েছে ৪৫ ফুট ব্রীজের বাহিরে। এটা আমার করিনি করেছে স্থানীয়রা। 

এব্যাপারে রত্নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা সরদার বলেন, ওই স্থানে ব্রীজ নির্মানের জন্য প্রথম পর্যায় দেড় লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি ঢালাইয়ের জন্য একলক্ষ টাকা দেওয়া হয়। 

এব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী জানান, ব্রীজ ঢালাই দেওয়ার কথা আমাদের বিভাগকে কেউ জানায়নি। কেউ এলজিইডি বিভাগকে না জানিয়ে ব্রীজের ঢালাই দিতে পারে না। 

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক বলেন, আমি ব্রীজের ঢালাইয়ের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছি। সরেজমিন গিয়ে ব্রীজটি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow