প্রবাসের সাফল্য ছেড়ে দেশের তরে ফেরা আলিম উল‍্যহ রিহ্যাব নির্বাচনে ঐক্য পরিষদের প্রার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
Apr 13, 2026 - 16:32
Apr 13, 2026 - 17:38
প্রবাসের সাফল্য ছেড়ে দেশের তরে ফেরা আলিম উল‍্যহ রিহ্যাব নির্বাচনে ঐক্য পরিষদের প্রার্থী

ছাত্রজীবনের সংগ্রাম শেষে প্রবাসে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নিজের বিলাসী জীবনের চেয়ে দেশের তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির স্বপ্ন তাকে ফিরিয়ে আনে মাতৃভূমিতে। দেশে ফিরে আবাসন খাতের সংগঠন রিহ্যাবের (REHAB) অনিয়মের বিরুদ্ধে গড়ে তোলেন আপসহীন আন্দোলন। তিনি মোহাম্মদ আলিম উল‍্যহ। আসন্ন রিহ্যাব নির্বাচনে ‘ঐক‍্য পরিষদ’-এর প্যানেল থেকে পরিচালক পদপ্রার্থী হিসেবে ব্যালট নং ৫৫-তে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। জানা যায়, ১৯৯০ সালের বৈরী পরিবেশে এক কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। প্রবাসে গিয়ে একাউন্টিং এবং রিয়েল এস্টেট—এই দুটি বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন এবং রিয়েল এস্টেটকেই নিজের পেশা হিসেবে বেছে নেন। কঠোর পরিশ্রম ও মেধার জোরে ২০০৪ সাল থেকে তার ব্যবসায়িক সাফল্য আসতে শুরু করে। ২০১১ সাল নাগাদ তিনি যে পরিমাণ সাফল্য ও প্রাচুর্য অর্জন করেন, তা একটি পরিবারের জন্য ছিল প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি। 

এই আত্মতৃপ্তি থেকেই নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের মানুষের জন্য কিছু করার তাড়না অনুভব করেন মোহাম্মদ আলিমুল্লাহ। ২০১১ সালে পরিবারসহ একেবারে দেশে ফিরে আসেন। তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল দেশের তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করা। তবে দেশে ফেরার পর তার এই পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। পদে পদে বাধা, প্রতিকূলতা ও নানা অপচেষ্টা তাকে থামানোর চেষ্টা করে, কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। একপর্যায়ে তিনি রিহ্যাবের সাথে যুক্ত হন। সেখানে শুরুতেই তিনি নানা অনিয়ম, অসংগতি ও ভয়ভীতির রাজত্ব দেখতে পান। এর প্রতিবাদ করায় তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়, এমনকি সদস্যপদ স্থগিতেরও ষড়যন্ত্র হয়। তবুও সত্যের পথে অটল ছিলেন তিনি। 

পরবর্তীতে রিহ‍্যাবের বর্তমান সিনিয়র সহ সভাপতি লিয়াকত আলি ভুইয়া ও ঔশি প্রপার্টিজের চেয়ারম‍্যান মোঃ আইয়ুব আলির আহ্বানে রিহ্যাব সংস্কারের আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন তিনি। হামলা-মামলা দিয়েও তার কণ্ঠরোধ করা যায়নি। তিনি বিশ্বাস করতেন, ন্যায়ের পথে যারা থাকে, তাদের কখনো থামানো যায় না। বিশেষ করে ২০২৪ সালের একটি ক্রান্তিলগ্নে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য তার ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। অনেকেই চাপের মুখে সরে গেলেও তিনি এবং আওয়াল ভাই ছিলেন আপসহীন। শেষ পর্যন্ত তাদের এই অকুতোভয় লড়াইয়ের ফলে অন্যায় শক্তির পতন ঘটে এবং রিহ্যাবে ফিরে আসে বহুল কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্র।

আসন্ন নির্বাচনকে সেই গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতারই একটি অংশ বলে মনে করেন মোহাম্মদ আলিমুল্লাহ। পরিচালক নির্বাচিত হলে তিনি রিহ্যাবকে একটি আধুনিক ও সদস্যবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার মূল লক্ষ্য হলো রিহ্যাবের সব কার্যক্রমে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, সংগঠনের প্রতিটি সদস্যের মর্যাদা ও ব্যবসায়িক নিরাপত্তা রক্ষা করা এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বাস্তবসম্মত ও কার্যকর সুযোগ তৈরি করা। তিনি চান রিহ্যাবকে গুটি কয়েক মানুষের হাতে বন্দি না রেখে, সত্যিকার অর্থে ‘সবার সংগঠন’-এ পরিণত করতে। ভোটারদের প্রতি বিনীত আহ্বান জানিয়ে মোহাম্মদ আলিমুল্লাহ বলেন, "আপনাদের মূল্যবান ভোট ও দোয়াই আমার পথচলার সবচেয়ে বড় শক্তি। আসুন, ঐক‍্য পরিষদের মাধ‍্যমে আমরা একসাথে একটি স্বচ্ছ, শক্তিশালী ও গণতান্ত্রিক রিহ্যাব গড়ে তুলি।"

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow