জীবনানন্দ দাশের ৭২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

অনলাইন ডেস্কঃ
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১:৫৫ পিএম
শেয়ার করুন:
জীবনানন্দ দাশের ৭২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের ৭২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৫৪ সালের আজকের এই দিনে (২২ অক্টোবর) কলকাতার শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাত্র ৫৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন আধুনিক বাংলা কবিতার এই যুগস্রষ্টা। 

এর আগে ১৪ অক্টোবর কলকাতার বালিগঞ্জে এক মর্মান্তিক ট্রাম দুর্ঘটনায় কবি গুরুতর আহত হন। ট্রামের ক্যাচারে আটকে তাঁর শরীর দলিত হয়ে কণ্ঠ, ঊরু এবং পাঁজরের হাড় ভেঙে যায়। দুর্ঘটনার পর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ২২ অক্টোবর রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে তিনি চিরবিদায় নেন।

কলকাতায় কবির প্রয়াণ হলেও তাঁর জীবনের বড় একটি অধ্যায় ও সাহিত্যের মূল সুর জড়িয়ে রয়েছে বাংলাদেশের বরিশালের সঙ্গে। কবির পূর্বপুরুষদের আদি নিবাস ছিল তৎকালীন বিক্রমপুর পরগণার কুমারভোগের গাওপাড়া গ্রামে। গ্রামটি পদ্মায় বিলীন হয়ে যাওয়ার পর ১৮৮৩ সালের দিকে দাশ পরিবার বরিশালে স্থায়ী হয়। কবিজীবনানন্দের বাবা সত্যানন্দ দাশগুপ্ত ছিলেন বরিশাল ব্রজমোহন স্কুলের শিক্ষক, প্রাবন্ধিক এবং ব্রাহ্মসমাজের মুখপত্র ‘ব্রাহ্মবাদী’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক। তাঁর মা কুসুমকুমারী দাশও ছিলেন একজন প্রতিভাধর কবি; যাঁর ‘আদর্শ ছেলে’ (আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে/ কথায় না বড় হয়ে কাজে বড়ো হবে) কবিতাটি আজও বাংলা সাহিত্যের এক কালজয়ী সৃষ্টি। পরিবারের সবাই জীবনানন্দ দাশকে ডাকতেন ‘মিলু’ নামে।

জীবদ্দশায় কবিকে পার করতে হয়েছে চরম অর্থনৈতিক টানাপোড়েন ও অনিশ্চয়তা। কবিতা লেখার ‘অপরাধে’ হারাতে হয়েছে অধ্যাপনার চাকরিও। জীবিকার সন্ধানে বরিশাল, বাগেরহাট ও কলকাতায় ঘুরেছেন নিরন্তর। বেঁচে থাকতে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক তেমন স্বীকৃতি বা খ্যাতি পাননি; জীবদ্দশায় তাঁর মাত্র সাতটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিল। 

তবে মৃত্যুর পর তাঁর ট্রাঙ্ক ও পাণ্ডুলিপি থেকে উদ্ধার করা হয় বহু অপ্রকাশিত কবিতা, ছোটগল্প ও উপন্যাস। তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে— ঝরা পালক, ধূসর পাণ্ডুলিপি, বনলতা সেন, মহাপৃথিবী, সাতটি তারার তিমির এবং মৃত্যুর পর প্রকাশিত রূপসী বাংলা। এছাড়া তাঁর লেখা উপন্যাস মাল্যবান, সুতীর্থ এবং মননশীল প্রবন্ধগ্রন্থ কবিতার কথা বাংলা সাহিত্যের আধুনিক চিন্তার অনন্য স্মারক।

জীবনানন্দ দাশকে বলা হয় সংবেদনশীলতা ও নিঃসঙ্গতার কবি। তাঁর কবিতায় বাংলার ধানসিঁড়ি নদী ও নিসর্গ যেমন জীবন্ত হয়ে উঠেছে, তেমনি উঠে এসেছে আধুনিক মানুষের অন্তর্গত একাকীত্ব ও নগরজীবনের ক্লান্তি। রবীন্দ্র-উত্তর যুগে বাংলা কবিতার প্রধান কাণ্ডারি হিসেবে তিনি পরবর্তী প্রজন্মের কবিদের গভীরভাবে প্রভাবিত করেছেন; এমনকি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধেও তাঁর কবিতা হয়ে উঠেছিল মুক্তিকামী বাঙালির প্রেরণা।

১৯৪৭ সালের দেশভাগের আগে সপরিবারে স্থায়ীভাবে কলকাতায় চলে যান কবি। যাওয়ার আগে বরিশালে তাঁদের এক একরের বেশি জমির বাড়িটি অবিক্রিত রেখেই গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে নানা জটিলতায় বাড়িটি হাতবদল হয়ে যায়। স্মৃতিবিজড়িত সেই পৈতৃক বাড়িটি পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন কবিপ্রেমী ও সংস্কৃতিকর্মীরা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।