এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ ধারণ করেছে। টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দেশের বিভিন্ন জেলা প্লাবিত হওয়ায় দুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। আর যেসব এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে, সেখানে ডায়রিয়া, চর্মরোগ ও ঠান্ডাজনিতসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে। রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক এলাকায় রোগীরা হাসপাতালেও পৌঁছাতে পারছেন না।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দৈনিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ৭টি জেলার ৫৯টি উপজেলার ৩৬৮টি ইউনিয়ন ও ১২টি পৌরসভা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের ঘটনায় এখন পর্যন্ত সারা দেশে ৫১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং আহত হয়েছেন ৩৯ জন। বন্যা দুর্গত জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ।
এদিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দেশের ১১টি জেলাকে বন্যাদুর্গত হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় বিজিবি সদস্য মোতায়েন করেছে। জেলাগুলো হলো—বান্দরবান, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও জামালপুর।
চট্টগ্রাম: পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব ও সাপের উপদ্রব
চট্টগ্রামের সাতকানিয়াসহ কিছু এলাকায় বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। দুর্গত এলাকাগুলোতে ডায়রিয়া, টাইফয়েড ও নিউমোনিয়ার মতো রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। সাতকানিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সেখানে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। তবে বাঁশখালী ও সাতকানিয়ার বিভিন্ন এলাকায় মেডিকেল টিম কাজ করছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন মো. জাহাঙ্গীর আলম।
উপজেলার ছনুয়া, শেখারখীল, পূর্ব পুইছড়ি ও কাথারিয়াসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে রয়েছে। অন্যদিকে চন্দনাইশ উপজেলায় পানিবাহিত রোগের পাশাপাশি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে সাপের উপদ্রব। চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১১ জনই সাপে কাটা রোগী। এ ছাড়া উপজেলার ৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।
কক্সবাজার: ট্রেন চলাচল শুরু হলেও চকরিয়ায় দুর্ভোগ
টানা বৃষ্টির কারণে রেললাইন ডুবে থাকায় পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। গতকাল দুপুরের পর চট্টগ্রাম থেকে 'পর্যটক এক্সপ্রেস' কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেয়।
কক্সবাজার শহর স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার পরিস্থিতি এখনো আশঙ্কাজনক। বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে গেলেও দুর্গতদের মধ্যে চর্মরোগ ও ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ছে। চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মিসকাত উদ্দীন আহমদ জানান, পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে চর্মরোগ ও ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এদিকে চকরিয়ার কৈয়ারবিল ইউনিয়নে বন্যার পানিতে ডুবে সজিব জলদাশ (১২) নামের এক কিশোরের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
বান্দরবান: যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও চরম খাদ্য সংকট
বান্দরবানের প্রধান নদী সাঙ্গু ও মাতামুহুরীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে ডুবে থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও রাঙামাটির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
জেলা সদরসহ লামা, আলীকদম, থানচি ও রুমা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত থাকায় চরম খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস জানিয়েছেন, জেলার ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৬ হাজার ২৫০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন, যেখানে সরকারিভাবে শুকনো ও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।
রাঙামাটি: দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছাতে বাধা
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, বরকল ও বিলাইছড়ির ফারুয়া ইউনিয়নসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। দুর্গম ফারুয়া ইউনিয়নে রাইংখং নদীর তীব্র স্রোত এবং উপড়ে পড়া গাছের কারণে নৌযান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, ফলে সেখানে ত্রাণ ও চিকিৎসা সামগ্রী পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
এছাড়া বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধস ও সেতু ধসে পড়ার কারণে রাঙামাটি-বান্দরবান এবং রাঙামাটি-রাজস্থলী সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ রাস্তা সচল করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
সুনামগঞ্জ: বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ও পর্যটনে নিষেধাজ্ঞা
সুনামগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের একাধিক স্থান তলিয়ে যাওয়ায় জেলা সদরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।
বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কায় জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার পক্ষ থেকে জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছে এবং পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে হাওর এলাকায় চলাচলের ওপর বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।
আগস্ট ৯, ২০২৫
মার্চ ১৫, ২০২৬
জুন ১৪, ২০২৬
রংপুর | ৮ অক্টোবর, ২০২৫
কুষ্টিয়া | ৪ জুন, ২০২৪
মুন্সীগঞ্জ | ১ অক্টোবর, ২০২৫
মাগুরা | ৫ অক্টোবর, ২০২৪
ফরিদপুর | ১৯ মে, ২০২৫
গাইবান্ধা | ১৩ জুলাই, ২০২৬
গাজীপুর | ১৩ জুলাই, ২০২৬
জাতীয় | ১৩ জুলাই, ২০২৬
ভারত | ১৩ জুলাই, ২০২৬
মাগুরা | ১৩ জুলাই, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।