থানচিতে অপহৃত ঠিকাদার উদ্ধার, মুক্তিপণের ৩ লাখ টাকাসহ অপহরণকারী আটক

অনুপম মারমা, থানচি প্রতিনিধি, বান্দরবানঃ
May 22, 2026 - 23:20
May 22, 2026 - 23:20
থানচিতে অপহৃত ঠিকাদার উদ্ধার, মুক্তিপণের ৩ লাখ টাকাসহ অপহরণকারী আটক

বান্দরবানের থানচিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) একটি বিশেষ অভিযানে অপহৃত বাঙালি ঠিকাদার মোঃ আমু হোসেন (৫০)-কে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। একই সাথে অপহরণের সাথে জড়িত স্থানীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য মাংলে ম্রো (২৬)-কে মুক্তিপণের নগদ ৩ লাখ টাকা ও একটি মোটরসাইকেলসহ হাতেনাতে আটক করেছে বিজিবি।

গতকাল ২১ মে ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৯টার দিকে থানচি বাজার সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসা থেকে ঠিকাদার মোঃ আমু হোসেনকে অপহরণ করে নিয়ে যায় একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী। তিনি থানচি উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক নির্মাণকাজে নিয়োজিত ছিলেন। অপহরণের পর ভিকটিমের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি তৈরি হলে তাঁর পরিবার অপহরণকারীদের দাবিকৃত ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে বাধ্য হয়।

ঘটনাটি জানার পর সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) এর অধিনায়ক ও বলিপাড়া জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মোঃ ইয়াসির আরাফাত হোসেনের সার্বিক দিকনির্দেশনায় বিজিবি তৎপরতা শুরু করে। জোনের ভারপ্রাপ্ত এ্যাডজুটেন্ট সহকারী পরিচালক মোঃ জাকির হোসেনের নেতৃত্বে বিজিবির একটি বিশেষ আভিযানিক দল গভীর রাতে থানচি উপজেলার পাহাড়ি জনপদ বিদ্যামনিপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। 

আজ ২২ মে ভোর রাত আনুমানিক ২টার দিকে পরিচালিত এই অভিযানে অপহৃত ঠিকাদার মোঃ আমু হোসেনকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়। একই সাথে ঘটনাস্থল থেকে অপহরণকারী মাংলে ম্রোকে আটক করা হয়। আটক মাংলে ম্রো দিংতে পাড়ার বাসিন্দা মেনতাং ম্রোর ছেলে। এ সময় অপহরণের কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল এবং মুক্তিপণ হিসেবে নেওয়া নগদ ৩ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

বিজিবি সূত্র জানায়, আটককৃত আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই এলাকায় পরিচালিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। 

থানচি এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও কয়েকজন বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছেন। শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সাথে নিয়মিত সমন্বয় রক্ষা করা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও র‌্যাবের সমন্বয়ে ওই এলাকায় একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, থানচি একটি পর্যটনবান্ধব এলাকা এবং এখানে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না। দেশের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা বদ্ধপরিকর।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow