স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আসছে বড় পরিবর্তন
বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় ধরনের সংস্কার ও পরিবর্তনের আভাস দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও থাকছে না পোস্টার ব্যবহারের সুযোগ। এ ছাড়া ইভিএম বর্জন, অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের বিধান বাতিল এবং সম্পূর্ণ নির্দলীয়ভাবে ভোটগ্রহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে কমিশন।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বাসসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালা সংশোধনের কাজ চলছে, যা আগামী জুনের মধ্যেই চূড়ান্ত হবে।
আসন্ন নির্বাচনে যেসব বড় পরিবর্তন আসছে:
১. পোস্টারবিহীন নির্বাচন: পরিবেশ রক্ষা ও নির্বাচনি ব্যয় কমাতে এবার স্থানীয় নির্বাচনে কোনো ধরনের পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না।
২. ইভিএম ও অনলাইন পদ্ধতি বাতিল: ভোটগ্রহণে আর ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে না। একইসঙ্গে অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের বর্তমান বিধানটিও বাতিল করা হচ্ছে।
৩. দলীয় প্রতীক থাকছে না: স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ নির্দলীয়। কোনো প্রার্থী দলীয় প্রতীক ব্যবহার করতে পারবেন না।
৪. স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতা বাতিল: স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের যে নিয়ম ছিল, তা শিথিল বা বাতিল করা হচ্ছে।
৫. জামানত বৃদ্ধি: উপজেলা নির্বাচন বাদে স্থানীয় সরকারের অন্য সব স্তরে প্রার্থীর জামানতের পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে।
৬. আইসিটি মামলায় অভিযুক্তদের নিষেধাজ্ঞা: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের মামলায় চার্জশিটভুক্ত কোনো ব্যক্তি বা ফেরারি আসামি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।
৭. প্রবাসী বা পোস্টাল ভোট: স্থানীয় নির্বাচনে প্রবাসীদের জন্য বা পোস্টাল ব্যালটের কোনো ব্যবস্থা থাকছে না।
নির্বাচন কবে?
কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, ঈদুল আজহার পরপরই সংশোধিত বিধিমালা চূড়ান্ত করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী অক্টোবর মাস থেকেই স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন শুরু করতে পারবে কমিশন।
সুষ্ঠু নির্বাচনের ৪ শর্ত
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিতে নির্বাচন কমিশনার চারটি বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। প্রথমত, সরকারের নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি; দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ; তৃতীয়ত, নির্বাচন কমিশনের আপসহীন মনোভাব এবং চতুর্থত, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের শতভাগ সততা ও সাহসিকতা।
তিনি সতর্ক করে বলেন, “ভোটের মাঠে কোনো ধরনের অনিয়ম বা জালিয়াত সহ্য করা হবে না। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে ভোটকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়ার কঠোর ক্ষমতাও কমিশনের রয়েছে।”
আব্দুর রহমানেল মাছউদ আরও বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক দলগুলো যেভাবে শৃঙ্খলা বজায় রেখেছে, স্থানীয় নির্বাচনেও তারা সেই একই ধরনের দায়িত্বশীল আচরণ করবে বলে কমিশন আশা করে। সহিংসতা রোধে পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতিও রাখা হচ্ছে।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ