বিএনপির জবাবদিহিতা মানুষের কাছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে না: রুমিন ফারহানা
বিএনপির দায়বদ্ধতা কেবল দেশের মানুষের প্রতি, কোনো বিদেশি শক্তির কাছে নয় বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। একইসঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তিকে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করে তা থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
শুক্রবার (২২ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিষদ আয়োজিত 'বিএনপি সরকারের তিন মাস: প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা' শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কড়া সমালোচনা
রুমিন ফারহানা বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমান বাণিজ্য চুক্তিটি দেশের ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট একটি দলিল। এ বিষয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া প্রয়োজন ছিল। আমি ছাড়া এই অসম চুক্তি নিয়ে সংসদে আর কেউ কথা বলেনি। এখন সময় এসেছে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তুলে এই চুক্তি থেকে সরে আসার।"
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ও পানি বণ্টন
আঞ্চলিক রাজনীতি ও ভারতের সাথে অমীমাংসিত ইস্যুগুলো নিয়ে রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন:
চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে গঙ্গার পানি চুক্তির নবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা পানি ব্যবস্থাপনা ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও ৫৪টি অভিন্ন নদীর ন্যায্য হিস্যা নিয়ে জোরালো আলোচনা প্রয়োজন।
পারস্পরিক সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে সকল সমস্যার সমাধান করতে হবে।
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি বলেন, "সেখানে বিজেপির উত্থানের পর বিভিন্নভাবে উস্কানি দেওয়া হচ্ছে। আমাদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে যাতে আমরা কোনো ফাঁদে পা না দিই। উস্কানিতে সাড়া দিলে দেশের জন্যই বিপদ বয়ে আনবে।"
তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও আগামী ভাবনা
বিএনপি সরকারের তিন মাসের কার্যক্রম মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন দেশ গঠন সম্ভব হবে। তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বিএনপি সরকার সঠিক পথেই এগোচ্ছে।
অন্যান্য প্রসঙ্গ
আলোচনা সভায় সম্প্রতি ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। ওই ঘটনায় সারজিস আলমের মন্তব্য এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ার বিষয়গুলোও সভায় উঠে আসে।
সভায় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও বিশিষ্ট নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ