রুমায় মৈত্রী পানি বর্ষণ: সাংগ্রাই পোয়ে উৎসবে সম্প্রীতির আনন্দে মাতোয়ারা যুবারা
ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বান্দরবানের রুমা উপজেলার বটতলী পাড়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে মারমা সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব সাংগ্রাই পোয়ে উপলক্ষে মৈত্রী পানি বর্ষণ অনুষ্ঠান। বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেল তিনটায় বটতলী পাড়ার খেলার মাঠে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বটতলী পাড়া উৎসব উদযাপন কমিটি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মৈত্রী পানি বর্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কেএসমং।
আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক উখ্যাইমং মারমা জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও পুরোনো বছরের গ্লানি মুছে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে এই আয়োজন করা হয়েছে। এবছর ২৯তম মাহা সাংগ্রাই পোয়ে উদযাপিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, এ উৎসবের মূল আকর্ষণ মৈত্রী পানি বর্ষণ, যেখানে বিভিন্ন পাড়া থেকে আগত যুবক-যুবতী, নারী-পুরুষ একে অপরকে পানি ছিটিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় ও আনন্দ ভাগাভাগি করেন। এতে অবিবাহিতদের পাশাপাশি বিবাহিত নারী-পুরুষের অংশগ্রহণও ছিল চোখে পড়ার মতো, বিশেষ করে তরুণী ও যুব মহিলাদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।
উখ্যাইমং মারমা আরও জানান, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মারমা সম্প্রদায়ের কাছে সাংগ্রাই পোয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। এই উৎসবকে আরও অর্থবহ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে গড়ে তুলতে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন সম্প্রদায়—ম্রো, তঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরা ও বম জনগোষ্ঠীর যুবকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবটি হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত।
আয়োজকরা জানান, বিকেল তিনটা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা পাঁচটার মধ্যে মৈত্রী পানি বর্ষণ অনুষ্ঠান শেষ হয়। এরপর সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং রাত ১১টা থেকে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী লোকনাট্য ‘পাংখুর’ নৃত্য পরিবেশিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা চলবে সারারাত।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুমা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান উহ্লাচিং মার্মা, পাইন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উহ্লামং মার্মা, রুমা সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শৈমং মারমা সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সাংগ্রাই পোয়ে মূলত বাংলা নববর্ষের সময় উদযাপিত মারমা সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ উৎসব, যা পুরাতন বছরের অশুভ শক্তিকে দূর করে নতুন বছরের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রত্যাশায় পালিত হয়। মৈত্রী পানি বর্ষণ এই উৎসবের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ, যা পারস্পরিক ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সামাজিক সম্প্রীতির প্রতীক। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ এ উৎসবকে কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং একটি সর্বজনীন মিলনমেলায় পরিণত করেছে।
উদযাপন কমিটির সংশ্লিষ্টরা জানায়, বটতলীপাড়ার পাশাপাশি বুধবার (১৫ এপ্রিল ) রুমা উপজেলায় যেসব পাড়া স্থানে মৈত্রী পানি বর্ষণ অনুষ্ঠান বা জলকেলি অনুষ্ঠিত হয়েছে- ছাইপো পাড়া ও পান্তলা পাড়া।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) পানি বর্ষণ অনুষ্ঠিত হবে- পাইন্দু ইউনিয়নের চান্দা হেডম্যান পাড়ায়। অনুষ্ঠান শুরু হবে দুপুর ২টায়। এতে ৩৬বীর রুমা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
পাইন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উদযাপন কমিটির সভাপতি উহ্লামং মারমার সভাপতিত্বে সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হবে এক মনগ্রজ্ঞ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়াও দুপুরে রুমাচড় পাড়া ও আমতলী পাড়ায় অনুষ্ঠিত হবে মৈত্রী পানি বর্ষণ অনুষ্ঠিত হবে।
What's Your Reaction?
শৈহ্লাচিং মারমা, রুমা প্রতিনিধি, বান্দরবানঃ