প্রকৌশলীকে মারধরের মামলায় অভিযুক্ত ঠিকাদার লোকমান ম্যানেজার গ্রেপ্তার।

জায়শা জাহান মিমি, স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ
Apr 15, 2026 - 18:37
Apr 15, 2026 - 18:37
প্রকৌশলীকে মারধরের মামলায় অভিযুক্ত ঠিকাদার লোকমান ম্যানেজার গ্রেপ্তার।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় রাস্তার নিম্নমানের কাজ নিয়ে প্রশ্ন করায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলীকে মারধর ও বাঁশ নিয়ে তাড়া করার ঘটনায় ঠিকাদার লোকমান হোসেনসহ তাঁর গাড়িচালকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। এই মামলায় ঠিকাদারের ব্যবস্থাপককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যবস্থাপকের নাম ফোরকান মিয়া। এর আগে ভুক্তভোগী এলজিইডির নবীনগরের উপসহকারী প্রকৌশলী মির্জা তরিকুল ইসলাম সোমবার সন্ধ্যায় নবীনগর থানায় একটি মামলা করেন।

মামলায় জেলা শহরের ছয়বাড়িয়ার বাসিন্দা মেসার্স লোকমান হাসেনের স্বত্বাধিকার ঠিকাদার লোকমান হোসেন (৫০) ও তাঁর গাড়ির চালক নবীনগরের নারুই গ্রামের মা. বিল্লাল হোসেনসহ (৫৫) অজ্ঞাতনামা আরো তিন-চারজনকে আসামির করা হয়েছে।

উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, নবীনগর উপজেলার মেরকুটা বাজার থেকে শিবপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কার্যাদেশ পায় রাজশাহীর মেসার্স বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সড়কটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ কোটি ৬৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের পক্ষে সড়কটির নির্মাণকাজ করছিলেন ঠিকাদার লোকমান হোসেন। কিন্তু সড়কটি নির্মাণে নিম্নমানের কাজ হচ্ছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ ওঠে। রোববার এলাকাবাসী সড়কের নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগে বাধাও দেন। পরে উপজেলা প্রকৌশলীসহ অন্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঠিকাদারকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সড়কের নিম্নমানের কাজের অভিযোগ পেয়ে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মেরকুটা জিসি থেকে শিবপুর বাজার আরঅ্যান্ডএইচ সড়ক পরিদর্শন করতে যান এলজিইডির প্রকৌশলীদের একটি দল। সে সময় তাঁরা রাস্তার নিম্নমানের কাজের প্রমাণ পান। রাস্তার নির্মাণকাজে নিয়োজিত ঠিকাদার ও মামলার আসামি লোকমানকে বিষয়টি জানানো হয়। সে সময় ঠিকাদার লোকমান তাঁদের সরকারি কাজে বাধা দেন। নিম্নমানের কাজের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঠিকাদার লোকমান এলজিইডির প্রকৌশলীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে ঠিকাদার লোকমান, তাঁর গাড়ির চালক বিল্লালসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা উপসহকারী প্রকৌশলী মির্জা তরিকুল ইসলামকে লাঠি দিয়ে পায়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন এবং ইট দিয়ে ঢিল মেরে আঘাত করেন। সহকর্মীরা বাঁচানোর জন্য এগিয়ে গেলে আসামিরা তাঁকে হত্যার হুমকি দেন ও ধাওয়া করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ১৪ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, ঠিকাদার লোকমান হোসেন অকথ্য ভাষায় প্রকৌশলীকে বকাবকি করছেন। একপর্যায়ে প্রকৌশলীকে দৌড়ে সেখান থেকে পালাতে দেখা গেছে। প্রকৌশলীর পেছনে বাঁশ নিয়ে দৌড় দেন ঠিকাদার লোকমান হোসেন।

এলজিইডির ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলীল বলেন, সড়কের নির্মাণকাজে অনিয়ম ধরা পড়ে। তাৎক্ষণিক কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু ঠিকাদার অফিসকে না জানিয়ে রাতের বেলা কাজ করেন। রাতেই উপজেলা প্রকৌশলী ও তদারকির দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী ঘটনাস্থল পরিদর্শনে করে ঘটনার সত্যতা পান। তখন যতটুকু অনিয়ম হয়েছে, ততটুকু ভেঙে নতুনভাবে করতে হবে। সোমবার দুপুরে এলজিইডির একটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল সরেজমিন পরদর্শনে আসেন। সেখানে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে এবং ঠিকাদার ও তাঁর লোকজন উপসহকারী প্রকৌশলীকে মারধর করেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

এ বিষয়ে একাধিকবার চেষ্টা করেও মুঠোফোন না ধরায় ঠিকাদার লোকমান হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, উপসহকারী প্রকৌশলী মারধরের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলা থেকে ঠিকাদারের ব্যবস্থাপককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow