মেয়েকে নিয়ে স্বস্তিকার আবেগী পোস্ট

অনলাইন ডেস্কঃ
Apr 13, 2026 - 17:05
মেয়েকে নিয়ে স্বস্তিকার আবেগী পোস্ট

টলিউডের জনপ্রিয় ও স্পষ্টভাষী অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখার্জি। পর্দা কিংবা বাস্তব জীবন—সবখানেই তিনি নিজের শর্তে চলতে ভালোবাসেন। তবে পর্দার সেই সাহসী অভিনেত্রীর ভেতরেও যে এক অতি সাধারণ ও আবেগপ্রবণ মায়ের বাস, তা আবারও প্রমাণিত হলো তার সাম্প্রতিক এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে। একমাত্র মেয়ে অন্বেষাকে বিদায় জানাতে গিয়ে ফেসবুকে এক দীর্ঘ ও মর্মস্পর্শী চিঠি লিখেছেন এই তারকা।

সম্প্রতি বিমানবন্দরে মেয়েকে বিদায় জানানোর মুহূর্তের একটি ছবি শেয়ার করেছেন স্বস্তিকা। সেখানে তিনি তুলে ধরেছেন এক শাশ্বত মাতৃত্বের চিরচেনা আকুতি। স্বস্তিকা লিখেছেন, ইমিগ্রেশন আর সিকিউরিটি চেকে চলে যাওয়ার আগে ওই কয়েক সেকেন্ডের জন্য শেষবারের মতো মেয়েকে দেখার অপেক্ষা, সেই ছোট্ট হাত নেড়ে ‘টাটা’ বলা আর ‘মাম্মা ফোন করছি’—এই ইশারাটুকু পাওয়ার জন্যই মায়েরা ঠায় দাঁড়িয়ে থাকেন।

সন্তান বড় হয়ে একা দুনিয়া ঘুরে বেড়ালেও বাবা-মায়ের কাছে সে চিরকাল ছোটই থেকে যায়। স্বস্তিকা তার পোস্টে সেই নিদারুণ কষ্টের কথা উল্লেখ করে লিখেছেন, “মেয়ে বাড়ি আসবে তার অপেক্ষার চেয়ে, মেয়ে আবার কবে বাড়ি আসবে—তার অপেক্ষায় যে নিদারুণ কষ্ট লুকিয়ে আছে, তা কেবল একজন মা-ই বোঝেন।”

স্মৃতিচারণ করে অভিনেত্রী আরও জানান, আগে যখন তার মা তাকে নিয়ে চিন্তা করতেন, তখন তিনি তা হেসেই উড়িয়ে দিতেন। মা বলতেন, ‘নিজে মা হলে বুঝবি’। আজ নিজের মেয়ের ক্ষেত্রে সেই একই উদ্বেগের কথা তুলে ধরে স্বস্তিকা বলেন, “এখন প্লেন উড়ে না যাওয়া অব্দি দাঁড়িয়ে থাকি। ট্রানজিটে মেসেজ করা, ল্যান্ড করে খবর দেওয়া—কলকাতায় বসে এসব খবর নিয়ে হয়তো কিছুই করার নেই, তাও মা-বাবা হিসেবে এই খোঁজটুকু নেওয়াটাই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কাজ।”

ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন লড়াই জয় করা স্বস্তিকা ১৯৯৮ সালে প্রমিত সেনের সঙ্গে ঘর বেঁধেছিলেন। তবে সেই সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। এরপর কোলে ছোট্ট অন্বেষাকে নিয়ে একাই জীবনযুদ্ধ শুরু করেন তিনি। প্রতিকূলতাকে জয় করে একজন ‘সিঙ্গেল মাদার’ হিসেবে মেয়েকে মানুষ করেছেন, হয়ে উঠেছেন তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু।

আজ সেই অন্বেষা পড়াশোনা বা কাজের প্রয়োজনে দূর দেশে পাড়ি দিলেও মা-মেয়ের এই অটুট বন্ধন ভক্তদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। স্বস্তিকার ভাষায়, “সন্তানেরা ভালো থাক, দূরে থাক কিন্তু ভালো থাক। তাতেই আমাদের ভালো থাকা।” জীবনের এই আবেগঘন মুহূর্তটি আবারও মনে করিয়ে দিল যে, খ্যাতি বা পরিচিতি যাই থাক না কেন, দিনশেষে সন্তানের মায়ায় সব মায়ের মনই এক ও অভিন্ন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow