পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আজ মুখোমুখি হচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনায় বসতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এই ঐতিহাসিক বৈঠকটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনার লক্ষ্যে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যে ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। যদিও পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বৈঠকটি স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় শুরু হওয়ার কথা ছিল, তবে কিছু অনিবার্য কারণে তা পিছিয়ে বিকেলে নির্ধারণ করা হয়েছে।
মূল আলোচনা শুরু হওয়ার আগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে পৃথকভাবে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতায় এই আলোচনার পথ সুগম হওয়ায় দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই বৈঠককে বেশ গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এগিয়ে আসে। গত ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবেই আজকের এই আলোচনার পথ উন্মুক্ত হয়েছে।
বৈঠকে আলোচনার জন্য ইরান ইতিমধ্যে ১০ দফার একটি প্রস্তাবনা পেশ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো— মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।
কূটনৈতিক মহলে এই আলোচনা নিয়ে আশার আলো দেখা দিলেও উভয় পক্ষের মধ্যে গভীর অনাস্থা ও অবিশ্বাসের দেয়াল রয়ে গেছে। দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে এই আলোচনা বিশ্ব শান্তিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখনো সংশয় প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি আবেগঘন পোস্ট এবং বিশ্বব্যাংক প্রধানের সাম্প্রতিক সতর্কবার্তা এই আলোচনার গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের এই উত্তেজনা প্রশমিত না হলে বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কার সম্মুখীন হতে পারে।
আজ বিকেলের এই বৈঠকের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ