ফরিদপুরে চাকরির প্রলোভনে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

নুরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ
Mar 13, 2026 - 15:57
ফরিদপুরে চাকরির প্রলোভনে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

ফরিদপুরে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বিদ্যালয়ের দপ্তরির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী এক যুবক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম কাজী রফিক। তিনি ফরিদপুর সদর উপজেলার আনছারউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের দপ্তরি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। 

মাউশিতে দেওয়া অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর সদর উপজেলার গুহলক্ষীপুর এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানা গত ৯ সেপ্টেম্বর এই লিখিত অভিযোগটি দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, কাজী রফিক নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন রেখে নিজেকে ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিতেন। এমনকি আনছারউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির তৎকালীন সভাপতি ও সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর নাম ভাঙিয়ে প্রভাব খাটাতেন তিনি। ড. চৌধুরীর মাধ্যমে স্কুলে অফিস সহায়ক পদে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সোহেল রানার কাছ থেকে জামানত হিসেবে নগদ ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন রফিক।

শুধু সোহেল রানাই নন, ওই দপ্তরির প্রতারণার শিকার হয়েছেন আরও অনেকে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ভাসানচর এলাকার আবদুল মতিনের কাছ থেকে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে অফিস সহায়ক পদের জন্য ১০ লাখ টাকা এবং বাখুন্ডা গ্রামের সাব্বির হোসেনের কাছ থেকে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে একই পদের জন্য ১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আনছারউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে চাকরি দেওয়ার নামে সালাউদ্দিন নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা এবং আয়া পদে চাকরির কথা বলে মর্জিনা নামের এক নারীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত এই বিপুল অর্থ দিয়ে কাজী রফিক রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন স্থানে নিজ নামে ও বেনামে জমি কিনেছেন বলে এলাকায় ব্যাপক জনশ্রুতি রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত হলে তার প্রতারণার আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। ইতিমধ্যে প্রতারণার শিকার সালাউদ্দিন নামের ওই ভুক্তভোগী কাজী রফিকের বিরুদ্ধে ফরিদপুর জজ কোর্টে একটি মামলাও দায়ের করেছেন।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত দপ্তরি কাজী রফিক। তিনি বলেন, "যাঁরা অভিযোগ করেছেন, আমি তাঁদের চিনিই না। তাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।"

এ বিষয়ে আনছারউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু জাফর শেখ বলেন, "কাজী রফিক আমাদের বিদ্যালয়ের দপ্তরি হিসেবে কর্মরত আছে। তবে চাকরি দেওয়ার নামে তার এমন অর্থ লেনদেন বা প্রতারণার বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কিছুই জানে না।"

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হাসান বলেন, "বিষয়টি আমার জানা ছিল না, আপনাদের মাধ্যমেই এইমাত্র জানলাম। আমি খোঁজ নিয়ে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখব। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক ওই দপ্তরির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

প্রতারণার শিকার হয়ে সর্বস্বান্ত হওয়া ভুক্তভোগীরা এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং খোয়া যাওয়া অর্থ উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow