সংকট শুরুর আগেই চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাল ১৫ জাহাজ

অনলাইন ডেস্কঃ
Mar 7, 2026 - 19:47
সংকট শুরুর আগেই চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাল ১৫ জাহাজ

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালি ঘিরে যখন বিশ্বজুড়ে তীব্র উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, ঠিক সেই সময়ে স্বস্তির খবর নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে শুরু করেছে বাংলাদেশগামী ১৫টি জাহাজ। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার আগেই অত্যন্ত কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি পাড়ি দেয় জাহাজগুলো।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এসব জাহাজে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টন পণ্য রয়েছে। এর মধ্যে ৪টিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), দুটিতে এলপিজি এবং ৯টিতে সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল ক্লিংকারসহ অন্যান্য পণ্য রয়েছে। ইতোমধ্যে ১২টি জাহাজ নিরাপদে বন্দরে নোঙর করেছে, বাকি ৩টি চলতি সপ্তাহের মধ্যেই পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কাতার থেকে এলএনজি নিয়ে আসা ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসাসিয়া’ জাহাজ দুটি ইতোমধ্যে বন্দরে পৌঁছেছে। এছাড়া আরও দুটি জাহাজ ‘আল গালায়েল’ ও ‘লুসাইল’ চলতি সপ্তাহের বিভিন্ন সময়ে বন্দরে এসে পৌঁছাবে। সব মিলিয়ে এই চারটি জাহাজে প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার টন এলএনজি রয়েছে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অন্যদিকে, ওমানের সোহার বন্দর থেকে এলপিজি নিয়ে আসা ‘জি ওয়াইএমএম’ জাহাজটি বন্দরে পৌঁছেছে এবং ‘সেভান’ নামের আরেকটি জাহাজ রোববার পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এছাড়া কুয়েত থেকে ৫ হাজার টন মনোইথিলিন গ্লাইকোল (এমইজি) নিয়ে ‘বে ইয়াসু’ নামের একটি জাহাজ গত বৃহস্পতিবার বন্দরে পৌঁছেছে।

শুধু জ্বালানি নয়, নির্মাণ খাতের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল নিয়ে আসা ৯টি জাহাজও বন্দরে পৌঁছেছে। এসব জাহাজে প্রায় ৫ লাখ ১৫ হাজার টন ক্লিংকার, জিপসাম ও চুনাপাথর রয়েছে, যা দেশের সিমেন্টশিল্পের উৎপাদন সচল রাখতে সহায়তা করবে।

বর্তমানে জাহাজগুলো নিরাপদে পৌঁছালেও দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটছে না। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ‘লিবারেল’ নামের একটি এলএনজিবাহী জাহাজ এখনো হরমুজ প্রণালির ভেতরে আটকা পড়ে আছে এবং এটি অতিক্রমের অপেক্ষায় রয়েছে।

উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে কাতার, কুয়েত, ইরান, ইরাক, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশ বড় ধরনের জ্বালানি পণ্য আমদানি করে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই রুট দিয়ে প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে জাহাজ আসা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় ইতিমধ্যে খোলাবাজার থেকে অতিরিক্ত এলএনজি কেনার উদ্যোগ নিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী। সেখানে উত্তেজনা স্থায়ী হলে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশেও পণ্য পরিবহনের খরচ ও অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow