‎জমি বিরোধে দুই সহোদরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, তদন্তে মিলল না সত্যতা

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর ) প্রতিনিধিঃ
২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৩:০৩ পিএম
শেয়ার করুন:
‎জমি বিরোধে দুই সহোদরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, তদন্তে মিলল না সত্যতা

‎ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দুই ব্যবসায়ী সহোদরের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির অপবাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

‎ভুক্তভোগীরা হলেন মৃত এনায়েত মোল্যার ছেলে হাসিব হোসেন রুহিন ও আরিফ হোসেন প্রিন্স।

‎সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, কৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত শাহজাহান মল্লিকের সঙ্গে তার চাচাতো ভাই ইছহাক মল্লিকের জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। বিষয়টি এর আগে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় মীমাংসা হয়। সম্প্রতি ইছহাক মল্লিক তার নিজস্ব সম্পত্তিতে একটি দ্বিতল ভবন নির্মাণ করেন। ভবনের পাশে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় তিনি মৃত শাহজাহান মল্লিকের জমির চলাচলের রাস্তা দখল করে একটি সেফটি ট্যাংকি নির্মাণের উদ্যোগ নেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে শাহজাহান মল্লিকের দুই জামাতা হাসিব হোসেন রুহিন ও আরিফ হোসেন প্রিন্স বাধা দেন।

‎জমির সীমানা ও রাস্তা নিয়ে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ইছহাক মল্লিক ওই দুই সহোদরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন। পরে তার একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন পেজে ছড়িয়ে পড়ে, যা এলাকায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে।

‎এ বিষয়ে উভয় পক্ষ আলফাডাঙ্গা থানা-এ লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তবে অনুসন্ধানের সময় অভিযোগকারী ইছহাক মল্লিক নিজেই পুলিশের সামনে চাঁদাবাজির বিষয়টি অস্বীকার করেন। এই প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “জমি নিয়ে বিরোধের কারণে তারা আমাকে সেফটি ট্যাংকি নির্মাণে বাধা দিয়েছিল। তবে চাঁদা দাবির বিষয়টি সঠিক নয়।” সংশ্লিষ্ট একটি অডিও রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।

‎ভুক্তভোগী হাসিব হোসেন রুহিন ও আরিফ হোসেন প্রিন্স বলেন, ইছহাক মল্লিক আমাদের শ্বশুরের রাস্তা দখল করে কাজ করতে চেয়েছিলেন। আমরা তাতে বাধা দিয়েছি মাত্র। কিন্তু তিনি প্রতিহিংসাবশত আমাদের সামাজিকভাবে হেয় করতে চাঁদাবাজির মিথ্যা অপবাদ ছড়িয়েছেন। পুলিশি তদন্তে সেটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।

‎এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নেওয়াজ হোসেন জানান, উভয় পক্ষের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করেছি। বর্তমানে তারা নিজেদের মধ্যে বিষয়টি সমাধান করেছে। চাঁদাবাজির মতো কোনো ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি।

‎স্থানীয়দের মতে, ব্যক্তিগত ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে ‘চাঁদাবাজি’ হিসেবে রঙ চড়িয়ে প্রচার করা সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। তারা এ ধরনের অপপ্রচারের নিন্দা জানিয়েছেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।