সালথায় স্কুলের গাছ কাটা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২০

জাকির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টারঃ
Jan 4, 2026 - 23:38
 0  5
সালথায় স্কুলের গাছ কাটা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২০

‎ফরিদপুরের সালথায় স্কুল চত্বরের গাছ কাটা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক নারীসহ উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অন্তত ১০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময় হামলা পাল্টা চালিয়ে বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।

‎রবিবার (৪ জানুয়ারি) বেলা ১১ থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের রাঙ্গারদিয়া গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

‎পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের রাঙ্গারদিয়া গ্রামে মো. জালাল মোল্যার সঙ্গে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. নান্নু মাতুব্বরের বিরোধ চলে আসছে। চলমান বিরোধের মধ্যে গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে রাঙ্গারদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চত্বরে থাকা ৮টি মেহগনি গাছ বিক্রির করার জন্য কেটে ফেলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য নান্নু মাতুব্বর। গাছ কাটার বিষয়টি প্রতিপক্ষ জালালের সমর্থকরা ও স্কুল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে কাটা গাছের গুড়ি ফেলে পালিয়ে যান ইউপি সদস্য নান্নু মাতুব্বরের শ্রমিকরা। পরে গাছগুলো স্কুল কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রেখে আসেন পুলিশ।

‎এদিকে গাছ কাটার বিষয় খবর পেয়ে রবিবার সকাল ১০টার দিকে স্কুলের যান সালথা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহা. তাশেম উদ্দিন। তিনি ঘটনাটি তদন্তের জন্য স্থানীয় উভয়পক্ষ নেতাদের নিয়ে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে বসেন। এ সময় উভয়পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায় জালালের সমর্থক মো. বাদশা মোল্যা ও তার স্ত্রীকে মারধর করে ইউপি সদস্য মো. নান্নু মাতুব্বরের সমর্থকরা।

‎পরে উভয়পক্ষের সংঘর্ষরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বেলা ১১ টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত দফায় দফায় এ সংঘর্ষ। সংঘর্ষের সময় হামলা পাল্টা চালিয়ে উভয়পক্ষের অন্তত ১০টি বসতঘর ভাঙচুর হয়। এতে নারীসহ উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অন্তত ১০ জনকে ফরিদপুর মেডিকেলসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

‎সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, শনিবার স্কুলের গাছ কেটে ফেলে স্থানীয় একটি চক্র। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে গাছগুলো উদ্ধার করে স্কুল কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রাখা হয়। বরিবার সকালে ঘটনাটি তদন্তের জন্য স্থানীয়দের নিয়ে বসেন। এ সময় দুটি পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এলাকার পরিবেশ এখন শান্ত আছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow