কাপ্তাইয়ে কম্প্রিহেনসিভ কমিউনিটি হেলথ প্রোগ্রামের নতুন পর্যায়ের সূচনা
রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে কম্প্রিহেনসিভ কমিউনিটি হেলথ প্রোগ্রামের নতুন পর্যায়ের “ইনসেপশন সভা” অনুষ্ঠিত হয়েছে। খ্রীষ্টিয়ান হাসপাতাল চন্দ্রঘোনা ও স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা হিল ফ্লাওয়ারের উদ্যোগে রবিবার (৩০ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় সভাটি আয়োজন করা হয়।
সিএইচডিএফ উসংবাই মারমার উপস্থাপনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন খ্রীষ্টিয়ান হাসপাতাল চন্দ্রঘোনার পরিচালক ডা. প্রবীর খিয়াং। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন, কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. ওমর ফারুক রনি, উপজেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. হোসেন এবং হিল ফ্লাওয়ারের কর্মকর্তা মিসেস জেনিফার অজান্তা তঞ্চঙ্গ্যা।
প্রধান অতিথি মোহাম্মদ রুহুল আমীন বলেন, কাপ্তাইয়ের কম্প্রিহেনসিভ কমিউনিটি হেলথ প্রোগ্রাম বহু বছর ধরে স্বাস্থ্য সচেতনতা ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। নতুন পর্যায়ের কার্যক্রম স্বাস্থ্য সচেতনতা, জেন্ডার উন্নয়ন ও জলবায়ু সহনশীলতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। সরকারি দপ্তর ও স্থানীয় অংশীজনদের সমন্বয়ে প্রকল্পটি এলাকার জনগণের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
প্রোগ্রামের ম্যানেজার বিজয় মারমা সভায় বর্তমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রোগ্রামটি ২০০৬ সাল থেকে কাপ্তাই উপজেলার সকল ইউনিয়ন ও রাঙ্গুনিয়া ১১নং চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নে স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল (MDG) অনুযায়ী মা ও শিশু স্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য, ম্যালেরিয়া, পানিবাহিত রোগ ও নিউমোনিয়া প্রতিরোধে মাঠ পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
২০১৬ সালের পর থেকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (SDG) অনুযায়ী নারীর ক্ষমতায়ন, নারীর অধিকার, বিভিন্ন সচেতনতা কর্মশালা, সেমিনার, উঠান বৈঠক ও অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে প্রকল্পটি নতুন কর্ম এলাকা ও কার্যক্রমসহ আরও তিন বছরের জন্য পুনরায় বাস্তবায়ন শুরু করেছে। নতুন পর্যায়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা, জেন্ডার উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ প্রতিরোধে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. প্রবীর খিয়াং বলেন, কম্প্রিহেনসিভ কমিউনিটি হেলথ প্রোগ্রাম দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধিতেও কাজ করছে। নতুন পর্যায়ের কার্যক্রম সফল করতে হাসপাতাল, হিল ফ্লাওয়ার, স্থানীয় প্রশাসন ও কমিউনিটির সহযোগিতা অপরিহার্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে আরও শক্তিশালী অবদান রাখবে।
প্রোগ্রামটি জার্মানভিত্তিক দাতা সংস্থা “ব্রেড ফর দ্য ওয়ার্ল্ড”-এর আর্থিক সহযোগিতায় পরিচালিত হচ্ছে। প্রথমে খ্রীষ্টিয়ান হাসপাতাল চন্দ্রঘোনা এককভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করলেও, ২০১৯ সাল থেকে হিল ফ্লাওয়ার অংশীজন হিসেবে কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রকল্পটি দেশের স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
What's Your Reaction?
রিপন মারমা, কাপ্তাই প্রতিনিধি, রাঙ্গামাটিঃ