শিশু রামিসা হত্যা ধর্ষক ও তার স্ত্রী সম্পর্কে যে লোমহর্ষক কাহিনি উঠে এসেছে

অনলাইন ডেস্কঃ
May 22, 2026 - 14:23
শিশু রামিসা হত্যা  ধর্ষক ও তার স্ত্রী সম্পর্কে যে লোমহর্ষক কাহিনি উঠে এসেছে

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বেরিয়ে এসেছে গা শিউরে ওঠা চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। শিশুটিকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা এবং পরবর্তীতে প্রমাণ লোপাটে তার দেহ ছিন্নবিচ্ছিন্ন করার কথা আদালতে স্বীকার করেছেন মূল ঘাতক সোহেল রানা। বুধবার (২০ মে) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ আসামির এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

যেভাবে ঘটেছিল সেই নৃশংসতা 
জবানবন্দিতে সোহেল রানা জানায়, ১৯ মে সকাল ৯টার দিকে শিশু রামিসাকে দেখে তার মধ্যে বিকৃত লালসা জাগে। ইয়াবায় আসক্ত সোহেল সুযোগ বুঝে শিশুটিকে ডেকে নিজের ঘরে নিয়ে যায় এবং বাথরুমে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। নির্যাতনের পর শিশুটি যখন তার বাবা-মাকে সব বলে দেওয়ার কথা জানায়, তখন ধরা পড়ার ভয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে সোহেল।

লাশ গুম ও স্ত্রীর সহযোগিতা  
হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার জেনে ফেলেন। তবে স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টায় তিনি এই পৈশাচিকতায় শামিল হন। তারা দুজনে মিলে লাশ গুম করার পরিকল্পনা করেন। প্রমাণ মুছতে তারা ধারালো ছুরি দিয়ে শিশুটির মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন এবং তার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করেন। 

পালানোর সুযোগ করে দেওয়া 
এদিকে রামিসাকে খুঁজে না পেয়ে তার মা যখন সোহেলদের দরজায় কড়া নাড়ছিলেন, তখন তাকে ভেতরে ঢুকতে না দিয়ে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখেন স্বপ্না। এই সময়ের মধ্যে সোহেল জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়। পরে প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করলে খাটের নিচে রামিসার মস্তকবিহীন নিথর দেহ এবং বিচ্ছিন্ন মাথা পড়ে থাকতে দেখেন। 

মামলার বর্তমান অবস্থা
এ ঘটনায় রামিসার পরিবার পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেছে। মামলার এজাহারে সোহেলের সঙ্গে আরও এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির জড়িত থাকার সন্দেহের কথা বলা হয়েছে। শিশু রামিসার এমন করুণ মৃত্যুতে পল্লবী এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়রা ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ পালন করছেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow