আলোচনায় হাসিনার অনুগত সেনা কর্মকর্তার পদোন্নতি
জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লিতে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আলোচিত এবং তাঁর অতি বিশ্বস্ত সেনা কর্মকর্তা কর্নেল জিএম রাজিব আহমেদকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর এই পদোন্নতিকে কেন্দ্র করে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
পদোন্নতি নিয়ে কেন বিতর্ক?
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সেনাবাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গত সাড়ে ১৫ বছরে বঞ্চিত অনেক দেশপ্রেমিক ও যোগ্য কর্মকর্তা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত থাকা সত্ত্বেও, ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী হিসেবে পরিচিত রাজিবের এমন পদোন্নতি সাধারণ সেনাসদস্যদের মাঝে গভীর ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, জুলাই আন্দোলনের সময় হত্যা ও নির্যাতনের নির্দেশদাতা হিসেবে অভিযুক্ত এমন একজনের পদোন্নতি বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার পাশাপাশি আন্দোলনের মূল শক্তির কাছে একটি ভুল বার্তা দিচ্ছে।
কে এই জিএম রাজিব আহমেদ?
তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের আগস্টে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহকারী সামরিক সচিব (এএমএসপিএম) হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে রাজিব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন। পরবর্তীতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর উপ-সামরিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা এবং মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকের অত্যন্ত আস্থাভাজন ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতাকে দমনের ক্ষেত্রে রাজিব পর্দার আড়ালে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন। ৫ আগস্টের পর ভাইরাল হওয়া একটি অডিও কথোপকথনেও শেখ হাসিনাকে রাজিবের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিতে শোনা গিয়েছিল।
নেপথ্যে প্রভাবশালী মহলের হাত?
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিতর্কিত হওয়ার পরেও রাজিবের এই পদোন্নতির পেছনে সরকারের উচ্চপর্যায়ে কর্মরত একজন প্রভাবশালী সামরিক কর্মকর্তার সরাসরি হাত রয়েছে। বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও ঐ কর্মকর্তা একই পদে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁরই সুপারিশে এর আগে রাজিব দক্ষিণ সুদানে শান্তিরক্ষা মিশনে (UNMISS) টিম কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সম্প্রতি মিশন শেষ করে দেশে ফেরেন।
বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে কেবল সেনাবাহিনীতেই নয়, বরং ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মেও চলছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা। সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় এবং বঞ্চিত কর্মকর্তাদের ক্ষোভ প্রশমনে এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ