বোয়ালমারীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বিএনপির কার্যালয়ে হামলা

এম এম জামান, বোয়ালমারী প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ
Apr 19, 2026 - 18:52
Apr 19, 2026 - 18:52
বোয়ালমারীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বিএনপির কার্যালয়ে হামলা

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে বিএনপির একটি অস্থায়ী কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৪ জনকে আটক করেছে। 

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৮টার দিকে উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের কমলেশ্বরদী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দাদপুর ইউনিয়নের কমলেশ্বরদী চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বেল্লাল হোসেনের প্রায় সাড়ে ২১ শতাংশ (২১.৫০) জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২০ সালে দাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মোশাররফ হোসেন এবং তার সহযোগীরা ওই জমির একটি অংশ জোরপূর্বক দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেন। এ নিয়ে একাধিকবার মামলা-মোকদ্দমা ও স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকও হয়েছে।

এই বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠক ডাকা হয়েছিল। তবে ইউপি চেয়ারম্যান ও তার লোকজন সেখানে উপস্থিত হননি। এর জেরে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ওই বিতর্কিত স্থাপনায় তালা ঝুলিয়ে দেন। 

এরই জের ধরে শনিবার সন্ধ্যায় উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগকারী ও কমলেশ্বরদী ওপাড় বাজার এলাকার বাসিন্দা ইসরাইল কাজী জানান, "রাত ৮টার দিকে চেয়ারম্যান মোশাররফের নেতৃত্বে আবজাল মাতুব্বর, রাকিব মাদবরসহ এক থেকে দেড়শ লোক সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালায়। তারা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। এ সময় আমাকেসহ বেশ কয়েকজনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।" এ ঘটনার পর উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত দাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেনের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও সংযোগ না পাওয়ায় তার মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। 

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ ও জাকির মাতুব্বরের নেতৃত্বে একটি টিনশেড ঘরে থাকা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় সেখানে থাকা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ছবিও ছুড়ে ফেলে ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে আমি নিজে পুলিশের একটি টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি।"

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ এখন পর্যন্ত ৪ জনকে আটক করেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ও পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow