লাক্স সুপারস্টার ২০২৫: স্বপ্নজয়ের গল্পে রাজশাহীর বিদুষী বর্ণিতা
ভোরের আলো ফোটার আগেই শুভেচ্ছাবার্তায় ভরে গেছে মুঠোফোন। ড্রয়িংরুমে চলছে আনন্দ-উৎসব আর মিষ্টিমুখের আয়োজন। গত শুক্রবার রাতে জমকালো গ্র্যান্ড ফিনালেতে ‘লাক্স সুপারস্টার ২০২৫’-এর মুকুট মাথায় তোলার পর থেকেই ঘোরের মধ্যে আছেন রাজশাহীর মেয়ে বিদুষী বর্ণিতা। দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর কঠোর পরিশ্রমের পর সেরার খেতাব অর্জনের সেই মুহূর্তটি বর্ণিতার কাছে ছিল অনেকটা স্বপ্নের মতো।
বিজয়ী হিসেবে নিজের নাম শোনার পর কেমন অনুভূতি হয়েছিল? এমন প্রশ্নের উত্তরে বর্ণিতা জানান, সেই মুহূর্তটি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তিনি বলেন, “সারা দিনের ক্লান্তি আর প্রবল মানসিক চাপের পর যখন নামটা ঘোষিত হলো, তখন আমি পুরোপুরি ব্ল্যাংক হয়ে গিয়েছিলাম। উত্তেজনায় আমার পা এত কাঁপছিল যে মনে হচ্ছিল আমি দাঁড়িয়ে থাকতে পারব না। এক সপ্তাহের নির্ঘুম রাত আর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হলো এক নিমিষেই।”
বর্ণিতার এই সাফল্যের পথটি মোটেও মসৃণ ছিল না। প্রতিযোগিতার জন্য রেজিস্ট্রেশন করার সময়টি ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম কঠিন সময়। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালের বিছানায় শুয়েই লাক্স সুপারস্টারের বিজ্ঞাপনটি দেখেছিলেন তিনি। পরিবারের কাউকে না জানিয়ে অনেকটা গোপনে আবেদন করেছিলেন। বর্ণিতা বলেন, “ভেবেছিলাম এই বিপদের দিনে যদি ভালো কিছু ঘটে, তবেই সবাইকে জানাব। এরপর যখন প্রাথমিক বাছাইয়ে টিকে গেলাম, তখন পরিবারকে সব বলি। তখন থেকে তাঁদের পূর্ণ সমর্থন আমাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে।”
২০২৫ সালের মে মাসে শুরু হওয়া এই আসরটি ছিল বিগত বছরগুলোর চেয়ে দীর্ঘতর। ১২ জন প্রতিযোগী থেকে ধাপে ধাপে ৫ জনে এসে ঠেকেছিল এই লড়াই। বর্ণিতা জানান, দীর্ঘ এই যাত্রায় অনেক চড়াই-উতরাই দেখেছেন তিনি। সহ-প্রতিযোগীদের সঙ্গে গড়ে ওঠা বন্ধুত্ব আর হার-জিতের লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে নিজেকে পরিণত করার শিক্ষা পেয়েছেন এই আসর থেকে।
এবারের আসরে মেন্টর হিসেবে ছিলেন জয়া আহসান, মেহজাবীন চৌধুরী ও রায়হান রাফী। এছাড়াও চঞ্চল চৌধুরী ও তৌকীর আহমেদের মতো গুণী শিল্পীদের কাছ থেকে গ্রুমিং সেশন নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন বর্ণিতা। একে বড় প্রাপ্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তাঁদের সান্নিধ্যে আসা এক বিরল অভিজ্ঞতা। এখন আমি মেন্টর রায়হান রাফী স্যারের সিনেমাতেই অভিনয়ের সুযোগ পাচ্ছি। এটি আমার জন্য যেমন সম্মানের, তেমনি বড় এক দায়িত্বও বটে।”
লাক্স সুপারস্টারের খেতাব জেতা শুধু একটি পুরস্কার নয়, বর্ণিতার কাছে এটি একটি বিশাল দায়ভার। তিনি মনে করেন, সাধারণ মানুষ তাঁকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন, কাজের মাধ্যমে তার প্রতিদান দিতে হবে। ভবিষ্যতে একজন সফল অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন লালন করছেন তিনি। বর্ণিতা চান এমন কিছু কাজ উপহার দিতে যা মানুষের মনে গেঁথে থাকবে এবং অন্যদেরও স্বপ্নপূরণে সাহস জোগাবে।
রাজশাহীর সাধারণ এক মেয়ে থেকে আজ দেশের অন্যতম আলোচিত তারকা হয়ে ওঠার এই গল্পটি বিদুষী বর্ণিতার অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রমেরই এক জীবন্ত প্রতিফলন।
What's Your Reaction?
বিনোদন ডেস্কঃ