নওগাঁয় পুকুর খননকৃত মাটি ও জমির টপ সয়েল বিক্রিতে বেপরোয়া মাটি ব্যবসায়ীরা খাদ্য ভান্ডার হুমকির মুখে
উত্তরাঞ্চলের অন্যতম খাদ্য ভান্ডার খ্যাত নওগাঁ জেলা। জেলা সদরসহ ১১ উপজেলায় তিন ফসলি জমিতে পুকুর খনননসহ জমির টপ সয়েল কেটে ইটভাটায় মাটি বিক্রির প্রবনতা আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ফলে একদিকে জমির উর্বরতা কমছে অপর দিকে প্রতিবছর তিন ফসলি জমি হ্রাস পাচ্ছে এ জেলায়। পুকুর খনন এবং জমির টপ সয়েল কেটে ইটভাটায় মাটি বিক্রির প্রবনতা দ্রুত বন্ধ করা না গেলে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম খাদ্য ভান্ডার খ্যাত এ জেলা খাদ্য ঘাটতির দিকে ধাপিত হওয়ার আশংকা স্থানীয় সচেতন মহলের। জেলা সদরসহ ১১ উপজেলার বিভিন্ন মাঠে তিন ফসলি জমিতে পুকুর খননের মহোৎসব চললেও প্রশাসন রয়েছে নিরব। শ্রেনী পরিবর্তন না করে আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের বৃদ্ধা আঙুল দেখিয়ে অসাধু মাটি ব্যবসায়ীরা ফসলি জমিতে পুকুরের খননকৃত মাটি এবং জমির টপ সয়েল বিক্রিতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
জেলার মাটি ব্যবসায়ীরা জমি মালিকদের বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে তাদের তিন ফসলি জমিতে পুকুর খনন এবং টপ সয়েল কেটে বিক্রিতে উৎসাহিত করছে। জেলা মহাদেবপুর উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের ঘাসিয়ারা গ্রামের জাদনের মোড় এলাকায় প্রায় এক একর তিন ফসলি জমিতে খননকৃত পুকুর ও জমির মালিক বিপুল চন্দ্র মন্ডল বলেন, উপজেলা শহরের জনৈক আব্দুর রহিম ও বিকাশ নামে দুই ব্যক্তি তার এ খননকৃত পুকুরের মাটি বিক্রির স্বর্তে জমির শ্রেণী পরিবর্তনের দ্বায়িত্ব নিলেও এপর্যন্ত শ্রেণী পরিবর্তন করা হয়নি। বিপুল চন্দ্র মন্ডল জানান, জমির শ্রেণী পরিবর্তন না হওয়ার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে তিনি অবহিত করেছেন।
এছাড়াও চলতি শুস্ক মৌসুমে জেলার ১১ উপজেলার দু’শতাধিক মাঠের বিভিন্ন স্থানে তিন ফসলি জমিতে পুকুর খনন শুরু করে মাটি খেকো ব্যবসায়ীরা। কোথাও খনন শেষ হয়েছে আবার কোথাও চলমান রয়েছে। ওইসব ব্যবসায়ীরা আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে বৃদ্ধা আঙুল দেখিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে এবং রাতের অন্ধকারে পুকুর খননের মাটির পাশাপাশি মাঠের জমির টপ সয়েল কেটে নিয়ে গিয়ে ইটভাটায় বিক্রি করছে। এক্সক্যাভেটর (ভেকু) মেশিন দিয়ে পুকুর খননের এবং জমির টপ সয়েল কেটে নেয়া মাটি ইটভাটা গুলোতে পরিবহন করা হচ্ছে ডালা খোলা ট্রাক্টর ও দশ চাকার ড্রামট্রাকে। ডালা খোলা ট্রাক্টরে এবং দশ চাকার ড্রাম ট্রাকে মাটি পরিবহনের ফলে রাস্তা গুলো কাদামাটিতে সয়লাব হয়ে যাচ্ছে।
নওগাঁ জেলা পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির সভাপতি নাহিদুজ্জামান রনি বলেন, খাদ্য উৎপাদনে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম জেলা নওগাঁ। এ জেলায় যেভাবে আবাদি জমিতে পুকুর খনন শুরু হয়েছে তাতে করে খাদ্য উৎপাদনে অদুর ভবিষৎসতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। অবৈধভাবে পুকুর খননকারী এবং মাটি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের প্রতি আরো কঠোর হওয়ার আহবান জানান পরিবেশ বাদী ওই নেতা। পুকুর খননের ফলে প্রতিবছর শতশত একর আবাদি জমি কমে যাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে মহাদেবপুর উপজেলা কৃষি অফিসার এইচ এম এরশাদ বলেন, পুকুর খনন বন্ধ করা তার কাজ নয়। অবৈধভাব পুকুর খনন প্রতিরোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কথা জানিয়ে মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুজ্জামান বলেন, এবিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
What's Your Reaction?
আব্দুল মজিদ মল্লিক, জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁঃ