নগরকান্দায় প্রশাসনের জরিমানার পরও থামছে না মাটিখেকোদের দৌরাত্ম্য
ফরিদপুরের নগরকান্দায় প্রশাসনের অভিযান ও জরিমানার তোয়াক্কা না করেই চলছে ফসলি জমির মাটি কাটার মহোৎসব। উপজেলার তালমা ইউনিয়নের সন্তোষী গ্রামে দিন-রাত প্রকাশ্যে ভেকু দিয়ে উর্বর মাটি কেটে বিক্রি করছে একটি চক্র। জরিমানার পরও মাটি ব্যবসায়ীদের এমন বেপরোয়া দৌরাত্ম্যে প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
জানা যায়, ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধে সম্প্রতি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফরোজা হক তানিয়া ওই এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। এ সময় অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে সংশ্লিষ্টদের আর্থিক জরিমানা করা হয়। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, জরিমানা দিয়ে পার পাওয়ার পরপরই চক্রটি পুনরায় মাটি কাটা ও বিক্রির কাজ শুরু করেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মারুফ ও জাকির নামের দুই মাটি ব্যবসায়ী জমির মালিকদের মোটা অঙ্কের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে রাতের আঁধারেই ফসলি জমির ‘টপ সয়েল’ (উর্বর অংশ) কেটে নিচ্ছে। এর ফলে আবাদযোগ্য সমতল জমিগুলো পরিণত হচ্ছে গভীর পুকুরে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, "সাময়িক টাকার লোভে কিছু জমির মালিক মাটি কাটতে রাজি হচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে এলাকার কৃষি উৎপাদন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। ফসলি জমি চিরতরে তার উর্বরতা হারাচ্ছে।"
প্রশাসনের অভিযানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মাটি ব্যবসায়ী মারুফ দম্ভভরে বলেন, “জরিমানার টাকা এক রাতেই উঠে আসে। আপনারা সাংবাদিকরা যত পারেন লিখেন।” তার এমন বেপরোয়া ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্যে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।
এদিকে, মাটি পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ভারী ট্রলি ও ড্রাম ট্রাক দিনভর গ্রামীণ সড়কে চলাচল করায় রাস্তাঘাট চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে ধুলোবালিতে বিপর্যস্ত হচ্ছে এলাকার পরিবেশ। জানা গেছে, এসব মাটি সরবরাহ করা হচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায়।
সার্বিক বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফরোজা হক তানিয়া বলেন, “ইতিমধ্যে অভিযান চালিয়ে তাদের জরিমানা করা হয়েছে। পুনরায় মাটি কাটার প্রমাণ পাওয়া গেলে এবার সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, আবাদযোগ্য ফসলি জমি, গ্রামীণ সড়ক ও পরিবেশ রক্ষায় কেবল নামমাত্র জরিমানা নয়; নিয়মিত নজরদারি বৃদ্ধি করে এসব অবৈধ মাটিখেকোদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে এই ধ্বংসযজ্ঞ থামানো কঠিন হয়ে পড়বে।
What's Your Reaction?
মিজানুর রহমান, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ