পিলখানা ট্র্যাজেডির শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

অনলাইন ডেস্কঃ
Feb 25, 2026 - 11:37
পিলখানা ট্র্যাজেডির শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
ছবি : সংগৃহীত

রক্তস্নাত পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭তম বার্ষিকী ও ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ আজ। দিবসটি উপলক্ষে ২০০৯ সালের এই দিনে পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহে নিহত শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদদের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে এই শ্রদ্ধা জানান তাঁরা। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের প্রতি সমবেদনা জানান।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁনসহ সামরিক-বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি বলেন, “২০০৯ সালের এই দিনে বিডিআর সদর দপ্তর পিলখানায় সংঘটিত নারকীয় হত্যাযজ্ঞে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন শহীদ হয়েছিলেন। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, ২০০৯ সালের পর দিনটি যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হয়নি। তবে ২০২৪ সালে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হওয়ার পর থেকে দিনটি ‘শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে।”

হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার চলমান থাকায় এ নিয়ে বিস্তারিত বলার অবকাশ নেই। তবে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে যে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী তৎপরতা বিদ্যমান ছিল, নাগরিক হিসেবে তা অনুধাবন করা জরুরি। হত্যাকাণ্ডের পর নানা মিথ্যা ও অপতথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এর নেপথ্য কারণ আজ জনগণের কাছে সুস্পষ্ট।”

সশস্ত্র বাহিনীকে দেশের সম্মান, বীরত্ব ও গৌরবের প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “ভবিষ্যতে আর কেউ যাতে সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে না পারে, আজ পুনরায় সেই শপথে বলীয়ান হতে হবে। দেশ ও জনগণের স্বার্থের বিপরীতে যেকোনো ষড়যন্ত্র আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াব—এটাই হোক শহীদ সেনা দিবসের প্রত্যয়।”

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পরপরই ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি ঘটে। গত বছর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২৫ ফেব্রুয়ারিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দেয়।

পিলখানা হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর বিচারিক আদালত রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬১ জনকে যাবজ্জীবন এবং ২৫৬ জনকে সর্বোচ্চ ১০ বছরসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পান ২৭৮ জন।

অন্যদিকে, একই ঘটনায় করা বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের অপর একটি মামলায় ৮৩৪ জন আসামির মধ্যে ২০ জন পলাতক রয়েছেন। বিচারিক আদালতে বর্তমানে এই মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow